অভিষেক পাল, কল্যাণী: বিরোধী হলেও পশ্চিমবঙ্গের সর্বস্তরের মানুষের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হবে এলাকার এমপি-বিধায়ককে। পূর্বতন সরকারের ‘শুধুমাত্র শাসক’ থিওরির বাইরে এসে এই রাজনৈতিক প্রথা চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর মঙ্গলবার তাতে সাড়াও দিলেন তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়করা। কল্যাণীতে এপিজে আবদুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া এবং হুগলি জেলার আধিকারিকদের সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এই তিন জেলার এমপি-এমএলএদেরও। আমন্ত্রণ স্বীকার করে কার্যত সকলকে চমকে দিয়েই বৈঠকে হাজির হন বাদুড়িয়ার তৃণমূল বিধায়ক বুরহান-উল-মুকদ্দিন (লিটন), হাড়োয়ার আবদুল মতিন, বসিরহাট দক্ষিণ সুরজিৎ মিত্র (বাদল), স্বরূপনগরের বীণা মণ্ডল, মিনাখার ঊষারানি মণ্ডল এবং দেগঙ্গার তৃণমূল বিধায়ক আনিসুর রহমান বিদেশ। এবং অবশ্যই বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। অর্থাৎ, তৃণমূলের একজন এমপি এবং ছ’জন বিধায়ক। প্রশ্ন উঠছে, এই হাজিরা কি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে মর্যাদা দেওয়ার জন্য? নাকি অপারেশন লোটাসের হাতছানি?
সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে তাঁকে সরানোর পর অভিমানের সুর শোনা গিয়েছিল কাকলির গলায়। বলেছিলেন, চার দশকের আনুগত্যের পুরস্কার দেওয়া হল। তারপরই তৃণমূলের জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন কাকলি। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দুর বৈঠকে যোগ দেওয়ায় তাঁর আগামী দিনের রাজনৈতিক পদক্ষেপই বর্তমানে বঙ্গ রাজনীতির আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও, এদিনের বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘সরকার সবার। এখানে রাজনীতি জড়াবেন না। আমি স্রেফ সরকারি বৈঠকে যোগ দিতে এসেছি।’ শুধু আমন্ত্রিত হিসাবে উপস্থিতি নয়, বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে একজন বৈঠকে বক্তব্যও রেখেছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আর কেউ নন, বারাসতের সাংসদই সওয়াল করেছেন এলাকা উন্নয়নের পক্ষে। এবিষয়ে শুভেন্দুর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘যে কোনো জনপ্রতিনিধিকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেওয়াটাই গণতন্ত্রের রীতি। তা পূর্বতন সরকার মানত না। আমরা সেই প্রথা ভেঙে রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে সকলকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কচকচানি হোক। বাকি সময়ে আমরা সবাই মিলে রাজ্যের উন্নয়ন করব।’
তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকে গিয়ে জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়নের স্বার্থে বক্তব্য রাখতেই পারেন। কিন্তু যেখানে জেলায় জেলায় কর্মীদের উপর বিজেপির অত্যাচার চলছে, সেই সময় প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়াটা বাঞ্ছনীয় নয়। যদিও বিষয়টিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহের পরিবর্তন হিসাবেই দেখতে চাইছেন অভিজ্ঞ আমলা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ। কারণ, শুধু মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণই নয়, এদিনই উত্তরকন্যায় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের ডাকা বৈঠকে যোগ দেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গোলাম রব্বানি, কানহাইয়ালাল আগরওয়াল সহ তৃণমূলের ১৪ জন বিধায়ক। আবার বিধানসভায় শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তৃণমূলের আরও দুই বিধায়ক সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্বত্রই তৃণমূল নেতাদের যুক্তি একটাই, ‘নিজের এলাকা উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছি।’
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও শুভেন্দু জানিয়ে দিয়েছেন, আজ বুধবারই অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র বিলি এবং অনলাইন পোর্টাল চালু হবে।