Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সালিশিতে জরিমানা-মারধরের ‘নিদান’ দিতেন তৃণমূল বিধায়ক

ধর্ষণের অভিযোগে ধৃত বিষ্ণুপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল এলাকায় সালিশি সভা বসাতেন। কাউকে মোটা টাকা জরিমানা তো আবার কাউকে মারধরের নিদান নিতেন।

সালিশিতে জরিমানা-মারধরের ‘নিদান’ দিতেন তৃণমূল বিধায়ক
  • ৩০ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:  ধর্ষণের অভিযোগে ধৃত বিষ্ণুপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল এলাকায় সালিশি সভা বসাতেন। কাউকে মোটা টাকা জরিমানা তো আবার কাউকে মারধরের নিদান নিতেন। ২০১৪ থেকে তিনি এই কাজ চালিয়ে আসছিলেন। বিধায়ক গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে এমনই সব অভিযোগ এতদিনে সামনে আসতে শুরু করেছে। ভয়ে কেউ এই নিয়ে এতদিন মুখ খোলার সাহস পাননি। একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে জোর করে জমি দখল, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া সহ আরও অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করেছে বিষ্ণপুর থানায়।

Advertisement

বিষ্ণপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে ভোট মিটতেই এক মহিলা ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ করেছেন। সেই মামলাতেই তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। ওই মহিলার মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর গোপন জবানবন্দির জন্য আলিপুর আদালতে আবেদন জানাচ্ছে বিষ্ণপুর থানা। যাতে বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলাকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করানো যায়। একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো সহ একাধিক অভিযোগে যে এফআইআরগুলি হয়েছে, তার তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষী জোগাড়ের কাজ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তাঁরা জানতে পারছেন,বিধায়ককে রীতিমতো ভয় পেতেন এলাকার লোকজন। মমতার মন্ত্রিসভায় ঠাঁই মেলার পর তাঁর দাপট আর বাড়ে। থানাকে তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ। কেউ থানায় কোন অভিযোগ নিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তদানীন্তন অফিসাররা ফোন করে তাঁকে সমস্ত কিছু জানিয়ে দিতেন। কেসই রুজু করত না থানা। তৃণমূলের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ নিয়ে এলে অভিযোগপত্রই বিষ্ণুপুর থানা নিত না বলে এতদিনে জানতে পারছেন পুলিশ কর্তারা। বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ জানাতে আসা ব্যক্তিদের সমস্যা মেটানোর নাম করে সালিশি সভায় ডেকে সেখানে তাঁদের উপর বিধায়ক  নির্যাতন চালাতেন বলে জানা যাচ্ছে। সেখানে এই বিধায়ক বলতেন, ওইসব থানা-পুলিশ করে কিছু লাভ নেই। তিনিই আইন। বিধায়ক যা বলে দেবেন সেটাই শেষ কথা। এরজন্য জরিমানা ধার্য করতেন। এর পরিমাণ লাখ টাকার কাছাকাছি পর্যন্ত ছুঁয়েছে। আবার কাউকে বেধড়ক মারধর পর্যন্ত করেছেন থানায় অভিযোগ করায়।
তদন্তকারীরা বলছেন, সরাসরি না মানলেও, ঘুরিয়ে বিধায়ক মানছেন, বিষ্ণুপুর জুড়ে জোর করে জমি দখল ও মাটি বিক্রির সিন্ডিকেট তিনিই চালাচ্ছিলেন।  তাঁর শাগরেদরা এই কাজ করত। পুলিশ সূত্রে খবর,  জমা পড়া ১১টির বাইরে আরও অভিযোগ আসছে। যার প্রত্যেকটিতে নাম রয়েছে দিলীপ মণ্ডলের। সেখানেও তাঁর বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে জমি দখল সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগেরও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে খবর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ