Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল ধর্ষণে অভিযুক্ত, আদালতে জানাল পুলিশ

পুরী থেকে গ্রেপ্তার হওয়া বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল ধর্ষণে অভিযুক্ত। একইসঙ্গে ধর্ষণের চেষ্টা, আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো, হুমকি, ঘর পুড়িয়ে দেওয়া সহ একাধিক ধারায় এফআইআর রয়েছে।

তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল ধর্ষণে অভিযুক্ত, আদালতে জানাল পুলিশ
  • ২৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: পুরী থেকে গ্রেপ্তার হওয়া বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল ধর্ষণে অভিযুক্ত। একইসঙ্গে ধর্ষণের চেষ্টা, আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো, হুমকি, ঘর পুড়িয়ে দেওয়া সহ একাধিক ধারায় এফআইআর রয়েছে। সবমিলিয়ে শুধু বিষ্ণুপুর থানায় তৃণমূলের এই বিধায়কের বিরুদ্ধে ১১ টি মামলা রুজু হয়েছে। সবকটি ঘটনা ঘটেছে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে। তৃণমূলের এই বিধায়ককে ‘নোটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ বলেও উল্লেখ করা হয় আদালতে। বৃহস্পতিবার দিলীপবাবুকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে ধর্ষণের মামলায় তাঁকে ৭ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। বাকি ১০টি মামলায় তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

ভোটের ফল বেরোনোর পর বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তাঁর বিজয় মিছিলে বিজেপি ও পুলিশকে নিয়ে কুৎসিত মন্তব্য করেন। হুমকি দেন, দিলীপ মণ্ডল কে, তা মুখ্যমন্ত্রী  শুভেন্দু অধিকারীর কাছ থেকে জেনে নিতে। ওই হুমকির প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়ায় অভিযোগে মামলা শুরু হয়। পুলিশ তাঁর বাড়িতে গেলে পালিয়ে যান এই বিধায়ক। ১৩ দিন পর তাঁকে পুরী থেকে গ্রেপ্তার করে বেঙ্গল এসটিএফ।  ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, বিষ্ণুপুরের বিধায়কের বিরুদ্ধে ২০১৪  সালে একটি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া,অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো এবং এক মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ জমা পড়েছিল, কিন্তু কোনো কেস হয়নি। অভিযোগ, উলটে নির্যাতিতাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন দিলীপ মণ্ডল। তাঁর বিরুদ্ধে জোর করে জমি দখল, অস্ত্র দিয়ে জমির মালিককে ভয় দেখানো, অস্ত্র নিয়ে মারধর, প্রতিবাদীদের মারধর করে এলাকা ছাড়া করা সহ একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। কিন্তু সেগুলির কোনোটারই এফআইআর হয়নি। ক্ষমতা বদল হতেই তাঁর বিরুদ্ধে জমা পড়া অভিযোগগুলির এফআইআর শুরু হয়। সবমিলিয়ে ১০টি এফআইআর হয়। বিধানসভার ফল ঘোষণার পরেরদিনই এক মহিলা ধর্ষণের অভিযোগ আনেন তৃণমূলের এই বিধায়কের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতা অভিযোগ করেন, অনেকদিন আগে তাঁর বাড়িতে ঢুকে ধর্ষণ করেছেন এই বিধায়ক।  অভিযোগ জানালে ফল ভালো হবে না বলেও শাঁসানো হয়। পরিস্থিতির বদল হওয়ায় তিনি অভিযোগ করছেন। তার ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর থানা দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের কেস রুজু করে। ধরা পড়ার পর ১১টি কেসেই তাঁকে বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ১১ টি মামলা দেখা যাচ্ছে। আরও ১১ মামলা রয়েছে। যার অভিযোগ আসতে শুরু করেছে থানায়। আর এক সরকারি আইনজীবী বলেন, দিলীপ মণ্ডল একজন ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’, তিনি প্রভাবশালী। প্রভাব খাটিয়ে এফআইআর করতে দেননি। যদিও দিলীপ বাবুর আইনজীবী গোপাল হালদারের বক্তব্য, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে খালি ভয় দেখানোর অভিযোগ আছে।

সম্পর্কিত সংবাদ