Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহুয়া-আবুর বিপ্রতীপ অবস্থানে দিশেহারা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা

করিমপুরে তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র ও আবু তাহের খানের ভিন্ন অবস্থানে কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে। বিস্তারিত পড়ুন।

মহুয়া-আবুর বিপ্রতীপ অবস্থানে দিশেহারা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা
  • ১০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: রাজ্য ও জাতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে করিমপুরের রাজনীতিতেও। দীর্ঘদিন ধরে করিমপুরের তৃণমূল রাজনীতিতে প্রাক্তন বিধায়ক ও কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খানের প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু সম্প্রতি সংসদীয় রাজনীতিতে দুই নেতার অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় করিমপুরের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই করিমপুরের তৃণমূলের রাশ ছিল এখানকার প্রাক্তন বিধায়ক ও বর্তমানে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের হাতে। নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি করিমপুরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও পরিচালিত হয়েছে তাঁর অঙ্গুলি হেলনে। স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় অংশ তাঁর নেতৃত্বেই রাজনীতি করেছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় সাংসদ হিসেবে আবু তাহের খানেরও নিজস্ব রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ বহু নেতাকর্মী ও সমর্থক করিমপুর এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। ফলে বর্তমানে জাতীয় স্তরে দুই নেতার রাজনৈতিক অবস্থান পৃথক হয়ে যাওয়ায় তৃণমূলের নীচুতলার কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। মহুয়া মৈত্র ২০১৯ সালে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ নির্বাচিত হলেও করিমপুরে তৃণমূল সংগঠনের নেতৃত্বে তাঁর প্রভাব কমেনি বলে স্থানীয়দের দাবি। ফলে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে আবু তাহের খান ও মহুয়া মৈত্রের সমর্থক দুই গোষ্ঠী দীর্ঘদিন একসঙ্গেই সংগঠন পরিচালনা করছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ঘিরে। করিমপুর বিধানসভা এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আবু তাহের খানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং ভবিষ্যতের অন্যান্য নির্বাচনে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। যদিও এই বিষয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অধিকাংশই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে নারাজ। দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না বলে জানা গিয়েছে। এদিকে তৃণমূলের এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখছে কংগ্রেস ও হুমায়ুন কবিরের দল। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় সংগঠন সম্প্রসারণে সক্রিয় হয়েছে দুই দল। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির করিমপুরের নেতা রাজেশ বিশ্বাস দাবি করেন, ভোটের আগে তৃণমূল নেতৃত্ব আম জনতা উন্নয়ন পার্টিকে বিজেপির ‘বি’ টিম বলে প্রচার করেছিল। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ তৃণমূলের প্রকৃত অবস্থান বুঝতে পারছেন। তৃণমূলের অনেক সমর্থক আমাদের দলে আসছেন। কংগ্রেসের করিমপুর ২ ব্লক সভাপতি আব্দুর রোউফ জানান, একসময় কংগ্রেসের হাত ধরেই তৃণমূল এই রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল। আজ তাদের অহংকার চূর্ণ হয়েছে। ইতিমধ্যে বহু তৃণমূল সমর্থক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি সম্পূর্ণ দুর্বল হবে এবং আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে কংগ্রেস প্রতিটি পঞ্চায়েতে শক্তিশালী লড়াই গড়ে তুলবে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের প্রভাব করিমপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা পড়ে এবং এর সুযোগ বিরোধীরা কতটা কাজে লাগাতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ