নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: চাকরি চুরি থেকে জমি দখল, গোরু পাচার থেকে ত্রিপল কেলেঙ্কারি– গত এক দশকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে এমন একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এবার টাকি থেকে আসা একটি অভিযোগ সেই বিতর্ককে অন্য মাত্রা দিল। শুধু সাধারণ মানুষকে নয়, তৃণমূল আমলে সপরিবারে নিজেদের রাজবাড়ি থেকে উৎখাত হতে হয়েছিল টাকির রাজপরিবারের সদস্য প্রবীর রায়চৌধুরীকেও। এক্ষেত্রে অভিযোগের তির টাকি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক গাজির দিকে। প্রবীরবাবুর অভিযোগ, তাঁকে দিয়ে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্প পেপারে সই করিয়ে নিয়েছিলেন ফারুক গাজি। এরপর পরিবার সমেত তাঁকে পারিবারিক রাজবাড়ি থেকে উৎখাত করেছিলেন। সাত বছর পর, বাংলায় পালাবদল হতেই এখন এলাকা থেকে বেপাত্তা ফারুক। আর সেই সুযোগে সপরিবারে নিজের ভিটেতে ফিরে এসেছেন প্রবীরবাবু।
ইছামতীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা টাকি রাজবাড়ি কেবল একটি ভগ্নপ্রায় স্থাপত্য নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যের, মোঘল সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যাঁর প্রতিরোধ আজও ইতিহাসের অন্যতম আলোচ্য, বংশের উত্তরসূরি প্রবীর রায়চৌধুরী। তাঁর দাবি, তাঁকে জোর করে ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকেও চাপের মুখে ফেলা হয়। চারদিকে সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করা হয়েছিল, ফলে প্রতিবাদ করার সাহসও ছিল না। সব কিছু ঘটেছে প্রকাশ্যে, কিন্তু কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে টাকি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা ফারুক গাজির নাম উঠে এসেছে।
প্রবীরবাবুর দাবি, স্থানীয় স্তরে ফারুকের প্রভাব এতটাই ছিল যে, প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনও লাভ হয়নি। পরিবারের খেদ, একের পর এক সরকারি দপ্তরে দরবার করেও তাঁরা কোনো ফল পাননি। জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাবের সামনে সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে যে পরিবারের অতীত জড়িয়ে রয়েছে বাংলার ইতিহাসের সঙ্গে, সেই পরিবারের সদস্যদেরই দীর্ঘ সাত বছর কাটাতে হয়েছে ভাড়াবাড়িতে। টাকির বাসিন্দা মহলেও এই ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চর্চা হয়েছে। অভিযোগ, ক্ষমতা কায়েম করেই ফারুক গাজি বাড়ি দখল করেছিলেন। ওই পরিবারটিকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছিল যে, আইনি অধিকার থাকলেও বাস্তবে সেই অধিকার প্রয়োগ করা সম্ভব ছিল না। সাত বছরের সেই লড়াইয়ের পর অবশেষে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন প্রবীরবাবু। তাঁর দাবি, তাঁদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল ভিটে। এনিয়ে ফারুক গাজির সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তাঁর ফোন সুইচড অফ মিলেছে। সেই সঙ্গে বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক বাদল মিত্ররও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। নিজস্ব চিত্র