নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুরসভার আরও এক কাউন্সিলারকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশ। বুধবার রাতে ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মহেশ কুমার শর্মাকে বড়বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পোস্তা থানা এলাকার বাসিন্দা এই কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে বড়বাজার এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তোলাবাজি করার অভিযোগ ছিল বলেই পুলিশ সূত্রে খবর। এদিকে, একই অভিযোগে ধৃত কলকাতার ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অরিজিৎ দাস ঠাকুরকে ১২ জুন পর্যন্ত পুলিশ হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আলিপুর আদালত। মঙ্গলবার রাত ১২টা নাগাদ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কলকাতার গরফা থানার পুলিশ। ধৃতকে বুধবার আলিপুর আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক পুলিশ হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এদিন থানা থেকে বের করে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁক লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ের ক্ষিপ্ত বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে এই নিয়ে কলকাতা পুরসভার মোট চারজন কাউন্সিলার গ্রেপ্তার হলেন। ঘটনাচক্রে তিনজনই তৃণমূল কংগ্রেসের। প্রথমে তোলাবাজির অভিযোগে ঠাকুরপুকুর থানার হাতে গ্রেপ্তার হন সুদীপ পোল্লে। মঙ্গলবার নারকেলডাঙা থানার হাতে ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার শচীন সিং। তারপর গরফায় গ্রেপ্তার হলেন অরিজিৎ দাস ঠাকুর। প্রাথমিক তদন্তে গরফা থানার পুলিশ জানতে পেরেছে, গরফায় আবাসন নির্মাণের জন্য কলকাতা পুরসভার অনুমোদিত বৈধ প্ল্যান থাকা সত্ত্বেও প্রোমোটার পতিতপাবনের কাছে ১০ লক্ষ টাকা তোলা দাবি করেছিলেন ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার অরিজিৎ দাস ঠাকুর বলে অভিযোগ।
পরে অবশ্য চার লক্ষ টাকায় রফা হয়। নগদে এই টাকা মেটানো হয়। কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার অরিজিৎ দাস ঠাকুর ওরফে রানার বিরুদ্ধে গরফা থানায় দু’জন প্রোমোটার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শংকর দাস নামে অপর প্রোমোটারের অভিযোগ, পুরসভার অনুমোদিত বৈধ প্ল্যান থাকা সত্ত্বেও তাঁর কাছে আবাসন নির্মাণের জন্য ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল তৃণমূল কাউন্সিলার অরিজিৎ দাস ঠাকুর এবং তাঁর শাগরেদরা। পরে অবশ্য প্রোমোটারকে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা দিতে হয়।