


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিপিএমের সাংগঠনিক অবস্থা প্রতিদিন খারাপ হওয়ার পিছনে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমই দায়ী। সরাসরি এই অভিযোগ এনেছে তৃণমূল। যেখানে সেলিমের উদ্দেশে তৃণমূল নেতাদের তির্যক মন্তব্য, ওঁর আমলে সিপিএম সংসদীয় ও পরিষদীয় পরিসরে শূন্য হয়েছে। আবার ওঁর সময়েই সিপিএমের তরুণ তুর্কিরা দল ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন।
প্রতীক উর রহমানের দল বদলের ধাক্কা যে সিপিএমে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে, তা ২৪ ঘণ্টা পরেও রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গিয়েছে। শনিবার সিপিএম ছেড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেছেন প্রতীক উর। তারপর থেকে শনিবার তো বটেই, রবিবার দিনভর সিপিএমের সাংগঠনিক অবস্থা কাটাছেঁড়া হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে, পাড়ার চায়ের দোকানে। প্রতিদিনই সিপিএমের সাংগঠনিক অবস্থা কেন দুর্বল হচ্ছে, তা নিয়েই সর্বত্র চর্চা চলছে। কেউ বলছেন, পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব হাল ধরতে পারছেন না। আবার কারো মন্তব্য, তরুণ প্রজেন্মের সুযোগ্য মুখকে লড়াইয়ের সামনে এনে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হচ্ছেন প্রবীণরা। যে প্রেক্ষাপটেই সিপিএমের বর্তমান রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অনেকেই। প্রতীক উর রহমান পার্টি ছাড়ার আগে সেলিমের বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ তুলেছেন। এই প্রেক্ষাপটেই রবিবার তৃণমূল নেতৃত্বের নিশানায় পড়লেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের খোঁচা, মহম্মদ সেলিমই সিপিএম পার্টিটাকে শেষ করে দিচ্ছেন। উনি উন্নাসিক, অহংকারী, মিথ্যা কথা বলেন। তার উপর পরিযায়ী প্রার্থী। নিজের স্বার্থের জন্য ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থী হন আর হেরে যান।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে রায়গঞ্জ লোকসভা আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন সিপিএমের মহম্মদ সেলিম। ওই নির্বাচনে হেরে যান তিনি। বিজেপির দেবশ্রী চৌধুরী জিতে যান। প্রাপ্য ভোটের নিরিখে সেলিম তৃতীয় স্থান পান। তারপর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হুগলির চণ্ডীতলা আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন সেলিম। ওই ভোটেও হেরে যান তিনি। তৃণমূল প্রার্থী সাথী খন্দকার জয়ী হন। সেবারও প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে বিজেপির পরে তৃতীয় স্থান পান সেলিম। সর্বশেষ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্র থেকে প্রাতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ওই নির্বাচনেও তৃণমূল প্রার্থী আবু তাহের খানের কাছে সেলিম পরাজিত হন।
তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের আক্রমণ, মহম্মদ সেলিম সিপিএমে ব্যর্থতম রাজ্য সম্পাদক। ওঁর আমলেই সিপিএমের এত দুর্দশা। বিধানসভায় শূন্য, লোকসভায় শূন্য, আর এপ্রিল মাসে রাজ্যসভাতেও শূন্য হতে যাচ্ছে সিপিএম। তার উপর তরুণ প্রজন্মের নেতাকে সেলিম পার্টিতে ধরে রাখতে পারছেন না। উনি নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাত্রিবেলায় মিটিং করতে যাচ্ছেন কারো সঙ্গে। বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের সব বুথে এজেন্ট দিতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক।