সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই জেলায় জেলায় তৃণমূলের বাহুবলী ও হেভিওয়েট নেতাকর্মীদের কু-কীর্তির খতিয়ান সামনে আসতে শুরু করেছে। তোলাবাজি থেকে শুরু করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধীদের ওপর নির্মম অত্যাচারের অভিযোগে একে একে শ্রীঘরে ঢুকছেন তৃণমূলের দাপুটে নেতারা। সেই তালিকায় এবার ঢুকে পড়লেন দুর্গাপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার তথা দুর্গাপুর ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি রাজীব ঘোষ। মাঝরাতে বিজেপির কার্যালয় থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার করা হল তাঁকে। রাজীবের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, একুশের ভোট পরবর্তী হিংসা।
ডিএসপি টাউনশিপের তানসেন মার্কেটের বিজেপির দলীয় কার্যালয়। বুধবার গভীর রাতে সেখানে আচমকা হাজির হন রাজীব। বিজেপির দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার কনভেনার সন্তোষ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করতে গিয়েছিলেন বলে সূত্রের খবর। মুহূর্তের মধ্যে সেই খবর চাউর হয়ে যায়। তানসেন মার্কেটে আছড়ে পড়ে বিজেপি কর্মীদের জনস্রোত। স্লোগান ওঠে ‘চোর, চোর’। যাঁর ভয়ে একসময় এলাকা কাঁপত, সেই রাজীব বিজেপির কার্যালয়ের এককোণে জড়োসড়ো হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রাজীবকে আটক করে নিয়ে যায়। তাঁকে প্রথমে বি-জোন ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় পুলিশকে। ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এলাকায় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা, মারধর, বাড়িঘর ভাঙচুর ও এলাকাছাড়া করা সহ একাধিক অপরাধের মূল পাণ্ডা ছিলেন এই রাজীব। দীর্ঘদিন ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেননি। এখন পালাবদল হতেই একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। এক মহিলা বিজেপি কর্মীর অভিযোগ, ২০২৪ লোকসভা ভোটের দিন বিজেপির বুথ ক্যাম্পে ঢুকে তাঁকে মারধর করা হয়। সেই ঘটনায় রাজীব ঘোষ জড়িত ছিলেন। বৃহস্পতিবার ধৃতকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
এদিন ধৃত তৃণমূল নেতাকে আদালতে তোলা হলে সেখানেও জুতো হাতে নিয়ে চোর চোর স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, ‘ক্ষমতা চলে যেতেই তৃণমূলের নেতারা এখন বিজেপিতে আশ্রয় খুঁজছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীরা অতীতের অত্যাচার ভুলে যাননি। সন্ত্রাসবাদী আর চিটিংবাজদের একমাত্র স্থান এখন জেলখানা।’ যদিও বিজেপির সন্তোষ মুখোপাধ্যায়ের সাফাই, ‘রাজীব ঘোষ কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা করতে এসেছিলেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানানো হয়। কিন্তু, খবর জানাজানি হতেই সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। একুশের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় মানুষ আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাই বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন দলের কর্মীরা। তারপর পুলিশে খবর দেওয়া হয়।’