Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গুলিকাণ্ডে ধৃত বিধায়কের ছেলের প্রসঙ্গ টেনে আনছে তৃণমূল, উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রচার আত্মবিশ্বাসী সুকুমারের

কোচবিহারের নয়টি বিধানসভা আসনের মধ্যে যে সিটটি তৃণমূল কংগ্রেস কোনো দিন দখল করতে পারেনি, সেটি হল কোচবিহার উত্তর।

গুলিকাণ্ডে ধৃত বিধায়কের ছেলের প্রসঙ্গ টেনে আনছে তৃণমূল, উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রচার আত্মবিশ্বাসী সুকুমারের
  • ২৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: কোচবিহারের নয়টি বিধানসভা আসনের মধ্যে যে সিটটি তৃণমূল কংগ্রেস কোনো দিন দখল করতে পারেনি, সেটি হল কোচবিহার উত্তর। একদা ফরওয়ার্ড ব্লক তথা বামেদের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত এই কেন্দ্রটি পরবর্তীতে বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়। এখানকার বিধায়ক সুকুমার রায় নিজেও দাপুটে বিজেপি নেতা। একদা বিজেপির জেলা সভাপতি ছিলেন। এখনও এই এলাকায় দাপটের সঙ্গে তিনি রাজনীতি করছেন। এবার তৃণমূল এখানে প্রার্থী করেছে দলের প্রাক্তন সাংসদ, প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায়কে। পার্থবাবু যথেষ্ট অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ফলে গত পাঁচ বছরে কোচবিহার উত্তর বিধানসভা এলাকায় বিধায়ক সুকুমার রায় কী কী কাজ করেছেন আর কী করতে পারেননি তা তুলে ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রচার শুরু হয়েছে। 

Advertisement

তবে বিজেপি প্রার্থী সুকুমার রায়ের দাবি, তাঁর বিধানসভা এলাকায় বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের পুরো টাকাই তিনি খরচ করতে পেরেছেন। তার মধ্যে সাড়ে ৩৬ লক্ষ টাকার কাজের অনুমোদন নির্বাচন ঘোষণার দিন কয়েক আগেই হয়ে গিয়েছে। সেই টাকায় পেভার ব্লকের রাস্তা হবে। এর আগে বিধানসভা এলাকায় আরও কিছু রাস্তা, স্কুলে পানীয় জল, প্রাচীর, বিভিন্ন এলাকায় আলোর ব্যবস্থা প্রভৃতি কাজ বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের টাকায় হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হল কোচবিহার উত্তর বিধানসভা এলাকায় বড় কোনো কাজ কি বিধায়ক করতে পেরেছেন? যার মাধ্যমে এলাকার বহু মানুষ এক সঙ্গে উপকৃত হতে পারেন? তৃণমূলের দাবি, এমন কোনো কাজই সুকুমারবাবু করতে পারেননি। শুধু তাই নয়, তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে এক তৃণমূল নেতাকে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় বিধায়কের গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় তাঁর ছেলে গ্রেপ্তারও হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্তি পান। ঘটনায় কোচবিহার উত্তর বিধানসভা এলাকায় যথেষ্ট শোরগোল পড়েছিল। কিন্তু সুকুমারবাবু প্রথম থেকেই দাবি করে এসেছেন যে, সবই তৃণমূল কংগ্রেসের চক্রান্ত। তাঁকে বদনাম করার জন্যই এসব চক্রান্ত করা হয়েছে।
এদিকে, বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসতেই সুকুমারবাবু এলাকায় প্রচারে নেমে পড়েছিলেন। এরপর প্রার্থী হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণা হতেই তিনি তেড়েফুঁড়ে প্রচারে নেমেছেন। উলটো দিকে তৃণমূল কংগ্রেসও এখানে পার্থপ্রতিম রায়কে প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করিয়ে সুকুমারবাবুকে টেক্কা দিতে চাইছে।
সুকুমার রায় বলেন, এলাকায় আমার বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের তিন কোটি ২০ লক্ষ টাকা পুরোটাই খরচ হয়েছে। এর মধ্যে শেষ সাড়ে ৩৬ লক্ষ টাকার অনুমোদন কিছুদিন আগেই হয়েছে। সেই টাকাও খরচ হয়ে যাবে।
কোচবিহার-২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর দে বলেন, এলাকায় বিধায়ক কোনো কাজই করতে পারেননি। এমন কোনো নিদর্শন নেই যেখানে বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের টাকায় কোনো কাজ হয়েছে। এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঝড় হয়েছে। সেই সব জায়গাতেও বিধায়ককে দেখা যায়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ