সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: গত পাঁচ বছরে বিজেপি বিধায়কের কাছ থেকে কী পেয়েছেন? এই প্রশ্নের সঙ্গে গত ১৫ বছরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের প্রাপ্ত সুবিধার তুলনা নিয়ে প্রতিটি ভোটারের কাছে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবে তৃণমূল। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র পুনরুদ্ধারে এভাবেই নিবিড় প্রচার শুরু করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। দল এখনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তার অপেক্ষায় থাকতে নারাজ ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল নেতৃত্ব। বুথে চলছে ছোট ছোট বৈঠক। তৃণমূল স্তরের নেতৃত্বকে সব বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বসে যাওয়া ও গুরুত্বহীন হয়ে পড়া কর্মীদের দলের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বিজেপির গড় হিসেবে চিহ্নিত এই বিধানসভা কেন্দ্রে গত দু’টি লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির একতরফা জয়জয়াকার হয়েছে। কিন্তু গত পঞ্চায়েত ও শিলিগুড়ি পুরসভা নির্বাচনে এখানকার ১৪টি ওয়ার্ডে তৃণমূলেরই দাপট ছিল। বিজেপি দাঁড়াতে পারেনি। পঞ্চায়েত ও শিলিগুড়ি পুরসভার নির্বাচনে তৃণমূল বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকলে বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে কেন পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে? এনিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আর সেই খামতি কাটিয়ে ওঠার জন্য বুথ স্তরে সাধারণ কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়ছে তৃণমূল।
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি ব্লক তৃণমূল সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, সাধারণ কর্মীদের আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। বড় সভা, মিটিং-মিছিলে সব সময় মানুষের মনোভাব, চাহিদা বোঝা যায় না। সাধারণ কর্মীরা তাদের নিজের এলাকায় মানুষের সমস্যা, চাহিদা মনোভাব ভালো বোঝেন। সেই দিকে যাতে কোনও ফাঁক না থাকে তার জন্য আমরা সাধারণ কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা বুথে বুথে ছোট ছোট দল করে বারবার বাড়ি বাড়ি যাব। মহিলারাও তাঁদের মতো করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের দলিল নিয়ে। বেশকিছু জায়গায় এভাবে প্রচারে মানুষের মধ্যে ভালো সাড়া পাওয়া গিয়েছে।
গত পাঁচ বছর বিজেপি বিধায়কের কাছ থেকে কিছুই মেলেনি। বিপদে, অসময়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। এলাকায় এই অভিযোগ ক্রমশ সামনে আসছে। তার সঙ্গে রয়েছে এফআইআর নিয়ে হয়রানি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় উদ্বেগ, মানসিক যন্ত্রণা। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে এই অভিযোগ। এবারের ভোট যুদ্ধে এই দিকগুলিও তৃণমূলের হাতিয়ার। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গত ১৫ বছরে উন্নয়নমূলক কাজ, জনকল্যাণকর বিভিন্ন প্রকল্প এবং প্রকল্পের প্রাপ্ত সুবিধায় এখানকার মানুষ কীভাবে উপকৃত হয়েছেন সেই দিকটি বড় করে তুলে ধরা হচ্ছে। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল যতই চেষ্টা করুক কিছুই করতে পারবে না। এখানকার মানুষ বিজেপিকেই ভোট দেবে।