ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: প্রত্যন্ত চাষির ঘরের মেয়ের এশিয়াডে সোনা। অনেকটা রূপকথার গল্প মনে হলেও বাস্তবের মাটিতে তা সত্যি করে দেখিয়েছেন স্বপ্না বর্মন। অদম্য লড়াইয়ে তাঁর সম্বল বলতে ছিল শুধুমাত্র ইচ্ছেশক্তি আর কঠিন অধ্যাবসায়। এই দু’য়ের জেরেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেন তিনি। স্বপ্নার হার না মানা লড়াইয়ের পথ ধরে আসা সাফল্যকে ‘হাতিয়ার’ করেই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ তথ্যচিত্র। আজ-কালের মধ্যেই সামনে আনা হবে ওই ভিডিও। যা তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চলবে বলে দলীয় সূত্রে খবর। তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ বলেন, স্বপ্না আমাদের তারকা প্রার্থী। তিনি বাংলা তথা দেশের গর্ব। ফলে তাঁর প্রচারে তো কিছু অভিনব কৌশল থাকবেই। সেইমতোই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামীর মন্তব্য, স্বপ্না খেলার মাঠে সফল। তিনি সোনার মেয়ে। দেশের গর্ব। তাঁকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু খেলার মাঠ আর রাজনীতি আলাদা। ভোটের ময়দানে তিনি যে দলের প্রার্থী হয়েছেন, নীতি-আদর্শগতভাবে সেই দলের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই হবে।
জেলায় দলের প্রত্যেক প্রার্থীকে নিয়ে বুধবার আলাদাভাবে বৈঠক করেন তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ। স্বপ্নার বাবা অসুস্থ। তিনি শিলিগুড়িতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখান থেকে এদিন দুপুরে জলপাইগুড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে আসেন স্বপ্না। দলের জেলা সভানেত্রীর সঙ্গে ঘণ্টা খানেক বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, খগেশ্বর-ইস্যুকে সামাল দিয়ে কীভাবে প্রচারে নামা হবে, স্বপ্নার সঙ্গে এদিন তা নিয়েই মূলত আলোচনা করেন মহুয়া। যদিও বৈঠক শেষে কোনো কথা বলতে চাননি ‘সোনার মেয়ে’। বাবা কেমন আছেন? শুধু এই প্রশ্নের উত্তরে স্বপ্না বলেন, ভালো নেই বাবা।
তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী জানিয়েছেন, স্বপ্নার বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এনিয়ে তিনি একটু টেনশনে রয়েছেন। তবে বৃহস্পতি কিংবা শুক্রবার থেকেই রাজগঞ্জে পুরোদমে প্রচারে নেমে পড়বেন ‘সোনার মেয়ে’। তাঁর প্রচারের শিডিউল তৈরি করা হচ্ছে।
খেলার মাঠ ছেড়ে এবার রাজনীতির ময়দানে জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে চলেছেন জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর পঞ্চায়েতের ঢিংপাড়ার বাসিন্দা স্বপ্না বর্মন। তাঁর মতো হেভিওয়েট রাজগঞ্জ আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ায় চাপে পড়ে গিয়েছে বিজেপি। এই কেন্দ্রে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি পদ্ম পার্টি।
• তৃণমূল জেলা কার্যালয়ে স্বপ্না বর্মন। - নিজস্ব চিত্র।