সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভোট ঘোষণার আগে ডায়মন্ডহারবারে পা রাখলেই দেখা যেত চতুর্দিকে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাট আউট ছবি, পোস্টার। ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারির পর স্বাভাবিক কারণেই সেসব সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। এই বন্দর শহরজুড়ে কেন শুধু অভিষেকের ছবি, তা অবশ্য টের পাওয়া গেল এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে। ডায়মন্ডহারবারের রূপকার কে? এক কথায় তাঁদের উত্তর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাস্তা থেকে সৌন্দর্যায়ন সবেতেই রয়েছে সাংসদের হাত। তৃণমূলের বিধায়ক থেকেও যেন নেই! লোকমুখে মুখে শুধুই অভিষেকের নাম। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী শুধু নামেই। সাংসদের ছায়ায় ভোটের লড়াইয়ে নেমেছে ঘাসফুল শিবির। এই বিধানসভার তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর শামিম আহমেদ বলেন, আমাদের সাংসদ যেভাবে ডায়মন্ডহারবারের উন্নয়ন করেছেন, তা দেখেই ভোট দেবেন মানুষ। অন্যদিকে, বিজেপি ও সিপিএম একে অপরকে তৃণমূলের বি-টিম বলে পালটা আক্রমণে নেমেছে। তৃণমূলের উন্নয়নের দাবিকে কটাক্ষ করতেও ছাড়ছে না তারা।
তৃণমূল এবার এই আসনে বর্তমান বিধায়ক পান্নালাল হালদারকে ফের প্রার্থী করেছে। তিনি ঘুরে ঘুরে প্রচার করছেন বিভিন্ন এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বিধায়কের তুলনায় সাংসদের কথাই বেশি বলছেন। স্বয়ং বিধায়ক নিজেও উন্নয়নের কাণ্ডারী হিসাবে অভিষেককেই তুলে ধরছেন। ২০২১ সালে এই আসন থেকে ১৬ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন পান্নালালবাবু। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূলের লিড আরও বাড়ে। এবার সেই মার্জিন আরও বাড়বে বলেই আশাবাদী ঘাসফুল শিবির। তবে বিজেপির ভোট যে কমতে চলেছে, এমনটা নয়। উত্তরোত্তর তাঁদের ভোটের শতাংশও বেড়েছে। সেটাকেই পাথেয় করে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি।
এক সময়ের লালদুর্গ হিসাবে পরিচিত ডায়মন্ডহারবার এখন পুরোটাই সবুজ। নির্বাচন এলেই ভোট কমে সিপিএমের। এই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সব পঞ্চায়েত, পুরসভা এখন তৃণমূলের দখলে। বিরোধীরা দাঁত ফোটাতে না পারলেও হাল ছাড়তে নারাজ। বিশেষত বিজেপি, যারা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক দীপক হালদারকে দ্বিতীয়বারের জন্য প্রার্থী করেছে, তারা এখনও আশাবাদী, এই আসনে পদ্ম ফুটবে। তার যুক্তিও দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। দীপকবাবুর কথায়, ডায়মন্ডহারবারে সন্ত্রাস ও ভয়ের পরিবেশ রয়েছে। মানুষ সেসব থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। নামেই উন্নয়ন হয়েছে। এবার অবাধ নির্বাচন হলে পরিবর্তন হবেই।
এলাকার মানুষ বলছেন, উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু কিছু কিছু সমস্যা এখনও আছে, যেগুলির সমাধান হওয়া উচিত। বিজেপি প্রার্থী এক সময়ে তৃণমূলে থাকায় ঘাসফুল শিবিরের শক্তি ও দুর্বলতা দুই’ই জানেন। এই নির্বাচনে হিন্দু ভোটকে এক জায়গায় আনতে মরিয়া বিজেপি। ডায়মন্ডহারবার বিধানসভা আসনে এবার তিন ভূমিপুত্রের লড়াই। তিনজনেই বর্ষীয়ান। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। এর মধ্যেই চলছে পারস্পরিক দোষারোপের পালা। দীপকবাবুর বক্তব্য, তৃণমূলের বিধায়ককে এলাকার মানুষ পান না। কোনো দরকার হলে নেতাদের কাছে ছুটতে হয় তাঁদের। ভোট কেটে সিপিএম এখানে সাহায্য করছে তৃণমূলকে। সিপিএম প্রার্থী সমরেন্দ্রনাথ নাইয়ার পালটা দাবি, এসব অসত্য কথা। আমাদের লড়াই তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে। উলটে গেরুয়া পার্টির সঙ্গে তৃণমূলের গোপন আঁতাত রয়েছে। তবে শেষমেশ নিজেদের ভোট কতটা ধরে রাখতে সক্ষম হয় বামেরা, সেটাই বড়ো চ্যালেঞ্জ বলে দাবি এলাকাবাসীর।