নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবারের এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে শাসক-বিরোধী কাদা ছোড়াছুড়ি অব্যাহত। তৃণমূলের দাবি, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বিহার, উত্তরপ্রদেশের মতো একাধিক ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্য থেকে পরীক্ষার্থীরা এসেছেন। বিজেপি বা এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলিতে কর্মসংস্থানের বেহাল দশাই এতে স্পষ্ট হয়েছে। পাল্টা বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসের অভিযোগ, ২৬ হাজার শিক্ষককে পথে বসিয়েছে যে রাজ্য সরকার, তাদের মুখে এখন এই কথার কোনও মানে নেই।
এদিন রাজনৈতিক মহলেও দিনভর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এসএসসি। দীর্ঘদিন বাদে হল এই পরীক্ষা। ফলে প্রশ্নপত্র, পরীক্ষা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা, পরিকাঠামো, নিরাপত্তা নিয়ে কৌতূহল ছিল সবার। ফলে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা শেষ হওয়ায় তৃপ্তির হাসি হেসেছেন রাজ্য প্রশাসনের কর্তারা। তারপরই তৃণমূল জানায়, এই পরীক্ষা নিয়ে যারা সামাজিক মাধ্যমে গুজব রটিয়েছে এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে, তাদের উচিত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘বিহার, উত্তরপ্রদেশের মতো ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য থেকে পরীক্ষার্থীরা এসেছিলেন বাংলায়। ওই রাজ্যগুলিতে কর্মসংস্থানের ভয়ঙ্কর অবস্থার কথা তাঁরাই তুলে ধরেছেন। সেই জায়গায় বাংলায় সুষ্ঠু পরিবেশের কারণে তাঁরা যে আশার আলো দেখছেন, সেটাও জানিয়ে গিয়েছেন।’
তবে উত্তরপ্রদেশের পরীক্ষার্থীর পশ্চিমবঙ্গে পরীক্ষা দিতে আসায় অস্বাভাবিক কিছু দেখছেন না বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ‘ভারতবর্ষের যে কোনও রাজ্যে যে
কেউ গিয়ে চাকরির চেষ্টা করতেই পারেন। ২৬ হাজার শিক্ষককে রাস্তায় বসিয়েছে তৃণমূল সরকার। যা অন্য কোনও রাজ্যে হয়নি। এখন আর পরীক্ষা প্রস্তুতির বয়স নেই, এমন অনেকে পরীক্ষায় বসতে বাধ্য হয়েছেন তৃণমূল সরকারের জন্য।’ নির্বিঘ্নে পরীক্ষা মিটলেও স্বচ্ছতার প্রশ্নে এখনই প্রশাসনকে ক্লিনচিট দিতে রাজি নন সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ‘আদালতের চাপে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, ভালো কথা। সেটা সততার সঙ্গে হয়েছে কি না, পরে বোঝা যাবে।’