নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: তৃণমূল শেষদিকে যোগ্যদের প্রকৃত সম্মান দেয়নি। অযোগ্য লোকজনকে বাঁকুড়া জেলার গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছিল। সেই কারণে ওই দলের ভরাডুবি হয়েছে। এখন দলের প্রতীক, নামও রইল না। এটাই হওয়ার ছিল। তৃণমূলের প্রতীক বিতর্কে এভাবেই পুরানো দলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বাঁকুড়ার এনসিপিআই সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী।
শুক্রবার দিল্লি থেকে ফোনে অরূপবাবু বলেন, বাঁকুড়ায় যাঁরা লড়াই করে তৃণমূলকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, তাঁরা শেষ দিকে যোগ্য সম্মান পাননি। ভোটকুশলী সংস্থার অঙ্গুলিহেলনে দল পরিচালিত হত। অযোগ্যদের পদে বসিয়ে ওই সংস্থা ও তার মাথারা দলকে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো চালাত। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। জঙ্গলমহলে তৃণমূল মুখ থুবড়ে পড়েছে।
মমতাপন্থী তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক মোহন কর বলেন, তৃণমূলের প্রতীকে জিতে অরূপবাবু বিজেপি-র হাতের পুতুল হয়ে গিয়েছেন। পিঠ বাঁচাতে বিজেপিতে গিয়েছেন। ভোটের আগে ওঁর বিরুদ্ধে বিজেপিই অনেক অভিযোগ তুলেছিল। আগামী ছ’মাসের মধ্যে অরূপবাবুদের সাংসদ পদ চলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে আমাদের দল নিয়ে উনি যত কম বলবেন, ততই ভালো।
এনিয়ে বিজেপি-র বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যবাসী তৃণমূলকে বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন। এখন ওদের কথার কোনো দাম নেই। বিজেপি রাজ্যে একক শক্তিতেই লড়াই করছে। অন্য কোনো দলের প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে অরূপবাবু মুষড়ে পড়েছিলেন। ২০১৩ সালে দল তাঁকে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি করে ক্ষতে প্রলেপ দেয়। ফের ২০১৮ সাল থেকে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের গ্রাফ নামতে শুরু করে। জেলা পরিষদের মেন্টরের পদ পেলেও তিনি খুশি হননি। ২০২১ সালে তালডাংরা বিধানসভা আসনে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে অরূপবাবু জয়ী হন। তার আগের তিন বছর দলের সঙ্গে তাঁর অম্লমধুর সম্পর্ক ছিল। বিশেষ করে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া আসনে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। দল তাঁর পরিবর্তে প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে টিকিট দেওয়ায় অরূপবাবু রুষ্ট হন। এরপর বিধায়ক থাকাকালীনই ২০২৪ সালে তৃণমূলের টিকিটে বাঁকুড়া লোকসভা আসনে অরূপবাবু জয়ী হন। যদিও দিল্লি যাওয়া তাঁর ‘না পসন্দ’ ছিল। তার বদলে রাজ্যের কোনো মন্ত্রীত্ব পেলে তিনি বেশি খুশি হতেন বলে ঘনিষ্ঠ মহলে বারবার জানিয়েছেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া লোকসভার অন্তর্গত বেশিরভাগ আসনে অরূপবাবুর অনুগামীদের তৃণমূল টিকিট দিয়েছিল। তবে দল তাঁকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় অরূপবাবুর সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়। এবার রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্য সাংসদদের সঙ্গে তিনিও এনসিপিআইতে চলে যান। শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন দিল্লিতে থাকলেও জেলার রাজনীতির দৈনন্দিন খোঁজখবর অরূপবাবু রাখেন। এদিন তৃণমূলের বিরুদ্ধে তাঁর বিষোদ্গার নতুন করে বাঁকুড়ায় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিল বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত।