সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: বৃহস্পতিবার নিতুড়িয়া ব্লকের লালপুর রমনীবালা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ফুটবল খেলার পর একের পর এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘটনায় রাত পর্যন্ত মোট ২১ ছাত্রীকে হাড়মাড্ডি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার তিন ছাত্রীর অসুস্থতা দেখা দেয়। বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য সকলকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। এদিন জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের কয়েকজন আধিকারিক হাসপাতালে আসেন। তাঁরা ছাত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গেও আলোচনা করেন। তাদের তরফ থেকে কোনো ভয়ের কারণ নেই বলে জানানো হয়েছে। ছাত্রীদের শারীরিক অবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে ছাত্রীদের পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে রয়েছে। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিভাবকদের সামনে রেখে ছাত্রীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা কোনো একটি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তবে কোনো খাবার খাওয়ার ফলে এই ঘটনাটি হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। জেলায় জমা দেওয়া হবে।
শিক্ষকদের একাংশের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, বিদ্যালয়ে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছ’শোর বেশি ছাত্রছাত্রী রয়েছে। লালপুর, ভাদুডাঙা, নডিহা, বাসারডি, চালমারার মতো গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা এখানে পড়তে আসে। যারা অসুস্থ, তারা সকলে ফুটবল খেলেনি। অনেকে খেলা দেখছিল। হঠাৎ এক ছাত্রী অসুস্থ হতেই একের পর এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। খাবারে বিষক্রিয়া হলে সকলেই অসুস্থ হতো। ছাত্রদের কারও কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। অসুস্থদের মধ্যে ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও দশম শ্রেণির দুজন করে এবং বাকি সব নবম শ্রেণির ছাত্রী। আমরা ছাত্রী ও তাদের পরিবারের পাশের সব সময় রয়েছি। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী স্মিতা মাজি বলে, খেলা দেখছিলাম। তারপরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাই। এখন সুস্থ রয়েছি। তবে শরীর অনেকটাই খারাপ লাগছে।
ছাত্রীদের অভিভাবকেরা বলেন, হাসপাতালজুড়ে প্রচণ্ড গরম। বারে বারে লোডশেডিং হচ্ছে। জেনারেটরের ব্যবস্থা নেই। মানুষ সুস্থ হতে হাসপাতালে আসে। কিন্তু হাসপাতালের যা অবস্থা তাতে সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়বে।
চিকিৎসকেরা জানান, তিনজন বাদে বাকিদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। সকলের রক্তচাপ, সুগার সবই স্বাভাবিক রয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, এটি গণ-আতঙ্কজনিত অসুস্থতা। গরমে ডিহাইড্রেশন ও ভয় থেকে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোনো খাবারে বিষক্রিয়া বা অন্য কোনো তেমন কারণ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাট বিষয়ে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে জেনারেটর ছিল। ২০১৯ সালে জেনারেটরের কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়। তারপর থেকে চুক্তি নবিকরণ হয়নি। একটি ইনভার্টার রয়েছে। তাতে সামান্য সময় চলে। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারের মধ্যেই থাকতে হয়। বিধায়ক মামনি বাউরি বলেন, জেনারেটরের বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ঘটনার পরেই রাতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। ছাত্রী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি। নিজস্ব চিত্র