নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, দার্জিলিং: বৃষ্টির শব্দের সঙ্গে জলের ছিটে। কনকনে ঠান্ডা। সিটং পাহাড়ে এমন আবহাওয়ায় হোমস্টের বারান্দায় গল্পে মশগুল চোপড়ার ‘হানিমুন কাপল’। পাশেই বার-বি-কিউ। ঠান্ডা বাড়ছে। নববধূর কথা ভেবে অনুরোধ ছিল, বার-বি-কিউয়ের আঁচটা কি একটু বাড়িয়ে দেওয়া যায়? কীভাবে বাড়বে আঁচ? তেল ঢালতে হবে। তাতেই ঘটল বিপত্তি! বার-বি-কিউয়ের আগুন ছিটকে ঝলসে গেলেন তরুণী বধূ। নাম নিকিতা দাস। আপাতত তিনি শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। দার্জিলিংয়ের পুলিশ সুপার ইয়েলওয়াড শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও বলেন, অভিযোগ হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ার যুবক সমীর দাস। দু’মাস আগে তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয় নিকিতার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর মধুচন্দ্রিমার জন্য তাঁরা কার্শিয়াংয়ে যান। বৃষ্টিতেই পাহাড় ঘুরে সন্ধ্যায় সিটংয়ের হোমস্টেতে ওঠেন। তখনও নির্জন সেই হোমস্টে এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল। সঙ্গে ছিল বেশ ঠান্ডা। ওই নবদম্পতি রুমে গিয়ে পোশাক পালটে হোমস্টের বারান্দায় এসে বসেন। খাবার অর্ডার দেন। তাঁদের পাশেই বার-বি-কিউ জ্বালাচ্ছিলেন হোমস্টের এক কর্মী। তিনি তাতে তেল ঢালতেই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। ঝলসে যান নিকিতা। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে সমীরের হাতও দগ্ধ হয়।
গুরুতর অবস্থায় নিকিতাকে শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে ভরতি করা হয়েছে। পাঁচদিন ধরে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। নিকিতার মামা তাপস দাসের অভিযোগ, আগুনে ঝলসে যাওয়ার পরও প্রায় এক ঘণ্টা হোমস্টের বারান্দায় পড়ে ছিলেন নিকিতা। সেই সময় তিনি যথাযথ চিকিৎসা সহায়তা পাননি। সেখানে অগ্নিনির্বাপক কোনো ব্যবস্থাও ছিল না। তাই ঘটনাটি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি পুলিশের কাছে জানানো হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর হোমস্টেগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ওই হোমস্টে কর্তৃপক্ষ অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মালিক নেহাল আইরেন বলেন, ‘ওই দম্পতি রুম বুক করেছিলেন। তাঁরা বার-বি-কিউতে খাবার তৈরির অর্ডার দিয়েছিলেন। তাই বার-বি-কিউ জ্বালানোর সময় ওই মহিলাকে বারবার সতর্ক করা হয়। কিছুটা দূরে বসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি শোনেননি। তাঁর কথা মতো বার-বি-কিউয়ের আঁচ বাড়ানোর চেষ্টা করেন এক কর্মী। এজন্য তিনি বার-বি-কিউতে তেল ঢালতেই আগুন ছিটকে যায়। তাতে তরুণী দগ্ধ হন। তাঁর পরনে নাইলনের পোশাক ছিল। মাথার চুল ছিল আলুথালু। এজন্য আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।’ হোমস্টের মালিকের দাবি, সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞ গাড়ি চালককে দিয়ে ওই দম্পতিকে শিলিগুড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার একটি নার্সিংহোমে ভরতি করা হয়। এ ব্যাপারে দম্পতির আত্মীয়দের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও দেওয়া হয়েছে।
ওই ঘটনা নিয়ে তদন্তে নেমেছে দার্জিলিং জেলা পুলিশ। ইতিমধ্যে তারা হোমস্টের ম্যানেজার ও কর্মীদের জেরা করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট হোমস্টেতে ৩২টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সেগুলির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।