Bartaman Logo
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কার্শিয়াং পাহাড়ে বিশ্বের প্রথম হিমালয়ান স্যালাম্যান্ডার স্যাংচুয়ারি তৈরির উদ্যোগ

পাহাড়ে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ হতে চলেছে ‘হিমালয়ান স্যালাম্যান্ডার স্যাংচুয়ারি’।

কার্শিয়াং পাহাড়ে বিশ্বের প্রথম হিমালয়ান স্যালাম্যান্ডার স্যাংচুয়ারি তৈরির উদ্যোগ
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: পাহাড়ে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ হতে চলেছে ‘হিমালয়ান স্যালাম্যান্ডার স্যাংচুয়ারি’। ডাইনোসরের যুগ থেকে টিকে থাকা বিরল ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ হিমালয়ান স্যালাম্যান্ডার বা হিমালয়ান নিউটকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে কার্শিয়াং পাহাড়ে  বিশ্বের প্রথম ‘হিমালয়ান স্যালাম্যান্ডার স্যাংচুয়ারি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য বনদপ্তর, জু অথরিটি এবং কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক। এই যৌথ উদ্যোগে এই সংরক্ষণ প্রকল্পের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে। কার্শিয়াং বনবিভাগের বিস্তারিত প্রস্তাব ও গবেষণার ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের বনমন্ত্রক ও সেন্ট্রাল জু অথরিটির কাছে সার্বিক রিপোর্ট জমা পড়েছে।

Advertisement

এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি কার্শিয়াংয়ের ডিএফও তথা ২০২০ ব্যাচের আইএফএস অফিসার দেবেশ পাণ্ডে। প্রাকৃতিক প্রজননস্থল পুনরুদ্ধার, কৃত্রিম জলাশয় তৈরি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের যুক্ত করে সংরক্ষণে উদ্যোগী হওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘ইকো ওয়ারিয়র অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগে মনোনীত হয়েছেন।
প্রায় ১৪-১৬ কোটি বছর আগে জুরাসিক যুগ থেকেই এই প্রাণীর পূর্বপুরুষের অস্তিত্ব বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। দৈহিক গঠনে সামান্য পরিবর্তনের কারণে একে ‘লিভিং ফসিল’ বলা হয়। প্রায় ১৬-১৮ সেন্টিমিটার দীর্ঘ এই প্রাণী ভারতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, ১৯৭২-এর তপশিল-১-এর অন্তর্ভুক্ত সর্বোচ্চ সুরক্ষিত প্রজাতি। বর্তমানে মূলত দার্জিলিং ও কার্শিয়াং পাহাড়েই এর অস্তিত্ব রয়েছে।
বনদপ্তরের মতে, হিমালয়ান স্যালাম্যান্ডার অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘ইন্ডিকেটর প্রজাতি’। জল দূষণ হলে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই প্রাণী। অথচ অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন, পর্যটন, প্লাস্টিক দূষণ এবং জলাভূমি ভরাটের কারণে তাদের প্রজননস্থল দ্রুত কমছে।
দেবেশ পাণ্ডে বলেন, প্রস্তাবিত স্যাংচুয়ারির প্রধান কেন্দ্র হিসাবে রয়েছে নামথিং পোখরি, পোখরিয়াটার ও পঞ্চ পোখরি। প্রথম ধাপে প্রায় ১২-১৫ একর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কঠোর আইনি সুরক্ষার আওতায় আনার পরিকল্পনা হয়েছে। ২০২৬-’৩১ সালের মেয়াদের ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানও তৈরি করা হয়েছে।
নামথিং পোখরিকে মডেল করে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, স্থানীয়দের জীবিকা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে একসূত্রে বাঁধার পরিকল্পনা নিয়েছে বনদপ্তর। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কার্শিয়াংয়ের এই বিরল প্রাণী সংরক্ষণে নতুন দিশা খুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ