Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলপাইগুড়ি শহরে একটি বুথেও লিড পায়নি তৃণমূল, উঠছে প্রশ্ন, লোকসভা ভোটের থেকে বিজেপির এগিয়ে থাকার ব্যবধান দ্বিগুণ

চব্বিশের লোকসভা ভোটে জলপাইগুড়ি শহরে প্রায় ১৭ হাজার ৭০০ ভোটে লিড পেয়েছিল বিজেপি। আর এবারের বিধানসভা নির্বাচনে জলপাইগুড়ি পুর এলাকায় নিজেদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান কার্যত দ্বিগুণ করল গেরুয়া শিবির।

জলপাইগুড়ি শহরে একটি বুথেও লিড পায়নি তৃণমূল, উঠছে প্রশ্ন, লোকসভা ভোটের থেকে বিজেপির এগিয়ে থাকার ব্যবধান দ্বিগুণ
  • ৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: চব্বিশের লোকসভা ভোটে জলপাইগুড়ি শহরে প্রায় ১৭ হাজার ৭০০ ভোটে লিড পেয়েছিল বিজেপি। আর এবারের বিধানসভা নির্বাচনে জলপাইগুড়ি পুর এলাকায় নিজেদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান কার্যত দ্বিগুণ করল গেরুয়া শিবির। একটি অক্সিলিয়ারি সহ জলপাইগুড়ি শহরের ২৫টি ওয়ার্ড মিলিয়ে মোট বুথের সংখ্যা ১০৪টি। একটিতেও লিড পায়নি তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু তাই নয়, বেশিরভাগ বুথে বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের ধারে কাছে পৌঁছতে পারেনি জোড়াফুল শিবির। ৪৫ নম্বর বুথ থেকে জলপাইগুড়ি শহরের ভোট শুরু। যার শেষ ১৪৯ নম্বর বুথে গিয়ে। দেখা যাচ্ছে, শহরের ১০৪টি বুথ মিলিয়ে বিজেপি প্রার্থী অনন্তদেব অধিকারী যেখানে ৪৭ হাজার ৮৮৮ ভোট পেয়েছেন, সেখানে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা মাত্র ১৭ হাজার ৮০০। অর্থাৎ, জলপাইগুড়ি শহরে ৩০ হাজার ৮৮ ভোটে পিছিয়ে পড়েছে জোড়াফুল শিবির। জলপাইগুড়ি পুরসভায় তৃণমূলের ২২ জন কাউন্সিলার থাকা সত্ত্বেও শহরে কেন এই শোচনীয় ফল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দলের অন্দরে।

Advertisement

পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের ৮ নম্বর ওয়ার্ড হোক কিংবা ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ মাহাতর ৫ নম্বর ওয়ার্ড, সর্বত্রই তৃণমূল কংগ্রেস পিছিয়ে পড়েছে। দলীয় কাউন্সিলার থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো ওয়ার্ডে তৃণমূলের ভোট ঠেকেছে তলানিতে। কিন্তু কেন? তার কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না তৃণমূল কাউন্সিলাররা। জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের অবশ্য দাবি, আমার ওয়ার্ডে আমি লড়াই দেওয়ার চেষ্টা করেছি। বিজেপির চেয়ে অল্প ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস পিছিয়ে আছে আমার এলাকায়। ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ মাহাতর ওয়ার্ডে তিনটি বুথ মিলিয়ে ৮১৮ ভোটে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। এনিয়ে সন্দীপের সাফাই, অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। বাড়ি বাড়ি গিয়েছি। কিন্তু আমার ওয়ার্ডে বড় অংশ অবাঙালি ভোট। যা আমাদের ঝুলিতে আসেনি।
জলপাইগুড়ির জয়ী বিজেপি প্রার্থী অনন্তদেব অধিকারী অবশ্য বলছেন, শহর থেকে এই লিড আমাদের প্রত্যাশিত। আমি তো আগেই বলেছিলাম, গত লোকসভা নির্বাচনে জলপাইগুড়ি পুর এলাকায় আমাদের যা লিড ছিল, এবার তার দ্বিগুণ হবে। সেটাই হয়েছে। ভোটের ফল প্রকাশের পর জলপাইগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাস ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, ইভিএমে কারচুপি হয়েছে। না হলে যে বুথে মহিলারা আমার মিটিংয়ের জন্য প্রায় মাঝরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন, সেই বুথে বিজেপি যা ভোট পেয়েছে, তার সিকিভাগও আমরা পাইনি। এর থেকেই সন্দেহ জাগে। 
যদিও বিজেপির জলপাইগুড়ি এক নম্বর মণ্ডলের সভাপতি মনোজ শাহর তোপ, তৃণমূল কংগ্রেস জলপাইগুড়িতে গোহারা হেরে এখন ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা করছে। আসলে তৃণমূলের দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে মানুষ বিজেপিকে উজাড় করে ভোট দিয়েছেন। জলপাইগুড়ি পুরসভাতেও তৃণমূলের পতন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
একুশে জলপাইগুড়ি আসনে ৯৪১ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের ডাঃ প্রদীপকুমার বর্মা। সেখানে এবার তৃণমূলকে হারিয়ে এই কেন্দ্রে বিজেপি ৬৮ হাজার ৮০৫ ভোটে জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হাজার ভোটে লিড শুধুমাত্র শহরে। দলের শোচনীয় ফল নিয়ে তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি চন্দন ভৌমিকের মন্তব্য, রাজ্যজুড়ে পরিবর্তনের হাওয়া ছিল। ফলে আমাদের যে আশা ছিল, তার ধারেকাছে পৌঁছতে পারিনি। এখন যে ফলাফল সামনে এসেছে, তা কীভাবে হল নিবিড় পর্যবেক্ষণ ছাড়া বলা 
সম্ভব নয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ