Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চিকিৎসকের চেম্বারে সস্ত্রীক তৃণমূল কাউন্সিলারের হামলা, রোগী দেখানো নিয়ে ঝামেলা ভিডিও ভাইরাল

এগরায় নিজের চেম্বারেই নিগৃহীত হলেন চিকিৎসক ও তাঁর কম্পাউন্ডার। সোমবার রাতে এগরা শহরে সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ওই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়

চিকিৎসকের চেম্বারে সস্ত্রীক তৃণমূল কাউন্সিলারের হামলা, রোগী দেখানো নিয়ে ঝামেলা  ভিডিও ভাইরাল
  • ১১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: এগরায় নিজের চেম্বারেই নিগৃহীত হলেন চিকিৎসক ও তাঁর কম্পাউন্ডার। সোমবার রাতে এগরা শহরে সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ওই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনায় অভিযুক্ত এগরা পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার দেবদুর্লভ মাইতি, তাঁর স্ত্রী ও সঙ্গীসাথীরা। নিগৃহীত চিকিৎসকের নাম তপেন্দু মান্না। তিনি এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ডাক্তার। সোমবার সন্ধ্যায় সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ডে ওই চিকিৎসকের চেম্বারে তুমুল ঝামেলা বাধে। খবর পেয়ে এগরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এনিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পারিজাত বিশ্বাস বলেন, ওই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ হয়েছে কি না, খোঁজখবর নেব।

Advertisement

এগরা পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে চেম্বার করেন মেডিসিনের ডাক্তার তপেন্দুবাবু। সোমবার ফোনে নাম লেখানোর পর সেখানেই নিজের কাকিমাকে নিয়ে হাজির হন তৃণমূল কাউন্সিলার দেবদুর্লভ মাইতির স্ত্রী। যদিও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে তাঁরা চেম্বারে গিয়েছেন বলে কম্পাউন্ডার জানান। এ নিয়ে সাময়িক কথা কাটাকাটি হয়। তারপর চেম্বারে আসা আরেক গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আগে দেখার জন্য তদ্বির করেন কাউন্সিলার ঘরনী। যা নিয়ে কম্পাউন্ডারের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। কাউন্সিলারের ওই আত্মীয়কে ডাক্তার চেক আপ করার সময়ে আরও একপ্রস্থ উত্তেজনা ছড়ায়। সেই উত্তেজনার মুহূর্ত ভিডিওগ্রাফি করতে শুরু করে দেন কাউন্সিলারের শ্যালক শুভদীপ গঙ্গোপাধ্যায়। তখন তাঁর হাত থেকে ফোন কেড়ে নেন ডাক্তার। তাঁকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়। ওই খবর কাউন্সিলারকে ফোনে জানানোর পরই লোকজন নিয়ে চেম্বারে হাজির হন দেবদুর্লভ।
জানা গিয়েছে, এগরার ওই তৃণমূল কাউন্সিলার কম্পাউন্ডারকে বেধড়ক মারধর করেন। তাঁরা সঙ্গীরা এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করেন। চেয়ার তুলে হামলা চলে। সেইসময় চিকিৎসক চেম্বারের ভিতর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কাউন্সিলারের স্ত্রী ওই চিকিৎসককে ধরে টানাহেঁচড়া করেন। গোটা ঘটনার ভিডিও নিমেষে ভা‌ইরাল হয়। তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় থানায় খবর দেওয়া হয়। বিরাট পুলিশ বাহিনী চেম্বারে পৌঁছয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ওই কাউন্সিলারের বাড়ির উল্টো দিকে চিকিৎসকের চেম্বার। সেখানে এরকম একটি ঘটনায় শহরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তপেন্দুবাবু এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসক। বেশ নামযশ রয়েছে। তাঁর চেম্বারে এরকম একটি ঘটনায় সকলেই হতবাক। কাউন্সিলার যেভাবে লোকজন নিয়ে গিয়ে দাদাগিরি করেছেন, অনেকেই তার সমালোচনা করছেন।
এনিয়ে তৃণমূল কাউন্সিলার দেবদুর্লভ মাইতি বলেন, আমার কাকি শাশুড়ির নিউমোনিয়া হয়েছিল। সেইসঙ্গে ফুসফুসে জল জমেছিল। কয়েকদিন এগরা সুপার স্পেশালিটিতে ভর্তি ছিলেন। তারপর ডিসচার্জ করা হয়। তপেন্দুবাবুর কাছে চেক আপ করা হচ্ছিল। সোমবার সন্ধ্যায় আমার স্ত্রী তাঁর কাকিমাকে নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে গিয়েছিলেন। সেখানে কম্পাউন্ডার ও চিকিৎসক দুব্যর্বহার করেন। আমি খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছ‌ই। তখন দেখি, আমার স্ত্রীকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের করা হচ্ছে। শ্যালককে মারধর করা হয়েছে। মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এরকম একটি ঘটনা দেখে প্রচণ্ড রাগ হয়ে গিয়েছিল। তপেন্দুবাবু অবশ্য এই ঘটনা নিয়ে কিছু বলতে চাননি। 

সম্পর্কিত সংবাদ