সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: খড়্গপুর শহরে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রেলের একটি রাস্তা বৃহস্পতিবার তৃণমূল নেতৃত্বের উপস্থিতিতে খুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলার রোহন দাস সহ একাধিক কাউন্সিলার। ছিলেন বহু সাধারণ মানুষও। পুরসভার দু’টি জেসিবি ব্যবহার করে রাস্তার ওপরে রাখা রেলের স্লিপার এবং বালি, চিপস সরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে আরপিএফ এলেও তাদের ফিরে যেতে হয়। জানা গিয়েছে, আরপিএফকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। আরপিএফের এক আধিকারিক বলেন, আমরা গিয়েছিলাম। ওখানে জোর জবরদস্তি রেলের জিনিস সরিয়ে দেওয়া হয়। তৃণমূলের লোকেরাও ছিলেন। আমরা ফিরে এসেছি। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যা নির্দেশ দেবে, সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খড়্গপুরের সিনিয়র ডিসিএম নিশান্ত কুমার বলেন, ওখানে বেআইনি কাজ হয়েছে। আরপিএফ আইনত ব্যবস্থা নেবে।
প্রসঙ্গত সাউথ সাইড এলাকায় শহরের রেল হাসপাতাল থেকে চাঁদমারি মহকুমা হাসপাতাল যাওয়ার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে রেলের পক্ষ থেকে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ, এসডিপিও বাংলো সংলগ্ন এই রাস্তা প্রায় তিনমাস ধরে বন্ধ। রেলের স্লিপার ফেলে রাস্তা ঘিরে দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি বন্ধ থাকার ফলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। তাঁদের অনেক ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। রেল অবশ্য জানিয়েছে, সংস্কারের জন্য রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছে। কাজ শেষ হলে খুলে দেওয়া হবে।
স্থানীয় কাউন্সিলার বলেন, কাজের নাম করে রাস্তাটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এর আগে বহুবার রেলকে এই রাস্তা খুলে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। আমরা দলের পক্ষ থেকেও ডেপুটেশন দিয়েছিলাম, কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। বাসিন্দারা আমাদের এসে বলছেন। ওই রাস্তা দিয়ে মাতাপুজোর শোভাযাত্রা যাবে। তবুও রেল কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না। তাই এদিন আমরা বাসিন্দাদের নিয়ে রাস্তা খুলে দিই। অনেক কাউন্সিলার, দলের জেলা সহ সভাপতি দেবাশিস চৌধুরী, যুব নেতা অসিত পাল সবাই ছিলেন। আমি কাউন্সিলার হিসেবে পুরসভা থেকে জেসিবি নিয়ে এসেছিলাম। দেবাশিসবাবু বলেন, এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। মানুষের অসুবিধা হচ্ছে, তাই তাঁরাই সরিয়ে দিয়েছেন। আমরা মনে করি, তাঁরা ঠিক কাজই করেছেন। এভাবে সরকারি সম্পত্তি সরাবার কাজে পুরসভার জেসিবি ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুরসভার চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষ বলেন, এলাকার কাউন্সিলার জঙ্গল সাফাই করার জন্য জেসিবি নিয়ে গিয়েছিলেন। শুনেছি সেটা অন্য কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এব্যাপারে দপ্তরের এসআই’র কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। কাউন্সিলারের কাছেও জানতে চাওয়া হবে।