Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তোলাবাজির অভিযোগে বরানগরে ধৃত তৃণমূলের কাউন্সিলার ‘মেজো’

তোলাবাজির অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করল বরানগরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার শান্তনু মজুমদার ওরফে মেজোকে। মঙ্গলবার রাতে এক গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

তোলাবাজির অভিযোগে বরানগরে ধৃত তৃণমূলের কাউন্সিলার ‘মেজো’
  • ১৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তোলাবাজির অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করল বরানগরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার শান্তনু মজুমদার ওরফে মেজোকে। মঙ্গলবার রাতে এক গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ, অন্যের ঘরে জোর করে ভাড়াটে ঢোকানো হয়। এরপর মীমাংসার নাম করে দফায় দফায় ৭০ হাজার টাকা তোলা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ধৃতকে এদিন বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক দু’দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তৃণমূলের দাবি, মেজো ছাড়াও মঙ্গলবার রাতে বরানগরের এক ওয়ার্ড সভাপতি সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

Advertisement

বরানগরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা রীতা দে। তিনি মঙ্গলবার রাতে বরানগর থানায় ওই কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ৪০/এফ রবীন্দ্রনগরে তাঁর তিনতলা বাড়ি রয়েছে। তা নিয়ে শরিকি বিবাদ রয়েছে। মামলা চলছে। গত ১৫ এপ্রিল ওই বাড়ির দোতলায় জোর করে ভাড়াটে বসিয়ে দেন ওই কাউন্সিলার। এমনকি, হুমকি দিয়ে বলা হয়, পুলিশকে বলে কিছু লাভ হবে না। ক্ষমতা থাকলে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন। এই হুমকি শোনার পর আতঙ্কে রীতাদেবী ও তাঁর পরিবার এ নিয়ে আর থানা-পুলিশ করেননি। অভিযোগ, সমস্যার সমাধানের নাম করে তাঁর কাছ থেকে কয়েক দফায় ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন কাউন্সিলার শান্তনু মজুমদার ওরফে মেজো। রীতাদেবী বলেন, আমার বাড়িতে জোর করে ভাড়াটে ঢোকানো হয়েছে। প্রতিবাদ করায় গালিগালাজের পাশাপাশি খুনের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে সরকার বদল হওয়ার পর সাহস করে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। শুনেছি, তার ভিত্তিতে ওই কাউন্সিলারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার চাই। যদিও গ্রেপ্তার হওয়ার আগে শান্তনুবাবু জানিয়েছেন, আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মিথ্যাচার করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্র করেই আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিন আদালত থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বলেন, রাজনৈতিক চক্রান্ত ছাড়া কিছু নয়। চোখে চোখ রেখে কথা বলেছি, তার জন্যই আমার এই অবস্থা হয়েছে। গোটা বরানগরে কেউ বলতে পারবে না, আমি কারও থেকে সাত টাকা নিয়েছি! অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে জুতো মুখে নিয়ে বরানগরে ঘুরব।
শহর তৃণমূলের সভাপতি বিশ্বজিৎ বর্ধন বলেন, কাউন্সিলারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কী কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানি না। ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি শুভঙ্কর কর সহ বহু নেতা-কর্মীকে নির্বাচন সংক্রান্ত ছোটো ছোটো মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ওইসব মামলায় সাধারণত থানা থেকেই জামিন হয়ে যায়। তা না করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। সেখান থেকে জামিন করাতে হচ্ছে। এই প্রবণতা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক।
বিজেপির বরানগর ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি মলি রায় বলেন, বরানগরে এমন বহু মেজো, সেজো, বড়ো নেতা আছেন। যাঁরা তোলাবাজি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। মানুষ সব জানে। ভয়ের আগল ভাঙতেই মানুষ থানায় যাচ্ছেন। পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে। আগের মতো এখন আর শাসকের আইন চলছে না, এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ