নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সোমবার চুঁচুড়া পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন করে বোর্ড গড়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তারপরেই মঙ্গলবার আরও চারজন কাউন্সিলার পদত্যাগ করলেন। এদিন সুপর্ণা সেন, সরস্বতী পাল, চন্দ্রিমা সরকার ও মৌসুমি সাহা তাঁদের পদত্যাগপত্র মহকুমা শাসকের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। সোমবারের ঘটনায় তৃণমূল কাউন্সিলারদের পুরসভা ভবনে ঢুকতেই বাধা দিয়েছিলেন বিজেপি সমর্থকরা। মঙ্গলবারের পদত্যাগকে কেন্দ্র করেও বিজেপি’র ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
অভিযোগ, বোর্ড গড়ার সমস্ত সম্ভাবনা সমূলে নষ্ট করতে এদিন কাউন্সিলারদের বাড়িতে গিয়েছিলেন বিজেপি সমর্থকরা। সেখানে ডিমবৃষ্টির হুমকি সহ নানাভাবে ভয় দেখানোর জেরেই একাংশ পদত্যাগ করেছেন।
যদিও ওই বিষয়ে পদত্যাগীরা মুখ খুলতে চাননি। তাঁরা নিজেদের চিঠিতেও সকলেই ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগের কথা বলেছেন। যদিও কী এমন ব্যক্তিগত কারণ তৈরি হল, যার জন্য চারজন কাউন্সিলার একসঙ্গে পদত্যাগের করলেন, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের তরফে নতুন করে বোর্ড গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন প্রবীণ কাউন্সিলার তথা প্রাক্তন চেয়ারম্যান অমিত রায়। মঙ্গলবার অমিতবাবু কলকাতার সভায় গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষদের বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে তিনি বলেন, রাজ্যে যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই, তা সোমবার বোর্ড গঠনের চেষ্টাকে ঘিরেই সামনে এসেছিল। কিন্তু আমাদের কাছে সংখ্যা আছে। সেই বিষয়টিই বিজেপি নেতাদের মনে ভয় ধরিয়েছিল। তাই বাড়ি বাড়ি হুমকি দিয়ে কাউন্সিলারদের একাংশকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। এই রাজনীতি কোনও সুস্থ সমাজে চলতে পারে না।
তৃণমূলের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন বিজেপি’র হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমরা পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখল করতে চাই না। ওসব তৃণমূলের সংস্কৃতি ছিল। এখন তো তৃণমূল কাউন্সিলাররা মুখ দেখাতেও চাইছেন না। আগে রাঘববোয়ালরা পালিয়েছেন, এখন চুনোপুঁটিরা পালাচ্ছেন। প্রসঙ্গত, চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সহ একদল নেতা কাউন্সিলার পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবার নতুন করে প্রায় ২৪ জন কাউন্সিলারকে নিয়ে বোর্ড গড়ার চেষ্টা করেন প্রবীণ একদল কাউন্সিলার। তারপরেই নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে।