নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শেষ হল এসআইআরের শুনানি। বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ কেবল সময়ের অপেক্ষা। মার্চে ভোট হওয়ার চূড়ান্ত সম্ভাবনা। তার আগে দলের সংগঠন নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করল তৃণমূল। দলের বারাসত সাংগঠনিক জেলা ইতিমধ্যেই ‘ইলেকশন কোর’ কমিটি ঘোষণা করল। ওই কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ। দায়িত্ব বেড়েছে হাবড়ার বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। তাঁকে কো-কনভেনার করা হয়েছে। ১৬ জনের নয়া কমিটির কাঁধেই ‘হাই ভোল্টেজ’ ছাব্বিশের ভোটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। জেলার অভিজ্ঞদের পাশাপাশি নতুনদেরও এই কাজে তুলে এনেছে নেতৃত্ব।
রাজ্যে বিভিন্ন নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তের জেলা উত্তর ২৪ পরগনার। এই জেলায় ৩৩টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বারাকপুর মহকুমায় ভাটপাড়া ও বনগাঁ মহকুমায় চারটি কেন্দ্র বাদে সবকটিতেই জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। পরবর্তীকালে উপনির্বাচনে বাগদা কেন্দ্রে জয় পায় ঘাসফুল। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলায় এই ৩৩-০ করার ডাক দিয়েছেন। সূত্রের খবর, ক’দিন আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে গিয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেখানেই একপ্রস্থ বৈঠক হয়। তারপরই এদিন বাড়তি দায়িত্ব পেলেন জ্যোতিপ্রিয়। একটা সময় অবিভক্ত জেলা তৃণমূলের সংগঠনের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। বর্তমানে কোনো সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন না। কিন্তু ‘অভিজ্ঞ’ জ্যোতিপ্রিয়কে ফের সাংগঠনিক দায়িত্বে নিয়ে এল দল। কোর কমিটিতে বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি কাকলি ঘোষ দস্তিদার, জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী সহ মোট ১৬ জন রয়েছেন। অভিজ্ঞদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকেও জেলার নির্বাচনে কাজে লাগাতে চাইছে দল। এই প্রসঙ্গে রথীন ঘোষ বলেন, দল যে দায়িত্ব দেবে, সেটা পালন করার চেষ্টা করব। অন্যদিকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, দল যখন যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালন করেছি। নতুন করে যে দায়িত্ব পেয়েছি, তাও মর্যাদার সঙ্গে পালন করব। নারায়ণবাবু বলেন, নেত্রীর দেওয়া গুরুদায়িত্ব সঠিকভাবেই পালন করব।