Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

একুশের ফল কাটাছেঁড়া করে ছাব্বিশে তৃণমূলের বিশেষ নজর ৭৯টি আসনে

২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের টার্গেট ইতিমধ্যে ঘোষণা করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলের বিশেষ অধিবেশন

একুশের ফল কাটাছেঁড়া করে ছাব্বিশে  তৃণমূলের বিশেষ নজর ৭৯টি আসনে
  • ১৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের টার্গেট ইতিমধ্যে ঘোষণা করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলের বিশেষ অধিবেশন থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে আসে, ২১৫-র থেকে বেশি আসনে জয়ের লক্ষ্য ছাব্বিশের ভোটে। আর এখানেই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে উঠে এসেছে ৬৯টি আসনে বাড়তি নজরের বিষয়। যে আসনগুলিতে জয়-পরাজয় নির্ণয় হয়েছে ১০ হাজারের নীচে ভোটের ব্যবধানে। আর ১০টি আসনে ব্যবধান ছিল ১০ হাজার ধার ঘেঁষে।

Advertisement

এক বছরে আগে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। পুরোদমে প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। তা দেখে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও এখন আর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে রাজি নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকেই বাংলায় ’২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আর এখানেই জেলাভিত্তিক বেশ কয়েকটি আসনের উপর বাড়তি নজর দিয়েছে তৃণমূল। উত্তরবঙ্গের একাধিক আসন রয়েছে, যেখানে বিজেপি জিতেছে পাঁচ হাজারের কম ভোটে। যেমন জয়ের ব্যবধান ছিল কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে ৪৭৯৯ ভোট, ফালাকাটায় ৩৯৯০ ভোট, তপন ১৬৫০ ভোট, গঙ্গারামপুর ৪৫৯২ ভোট, গাজোল ১৭৯৮ ভোট। এখানেই তৃণমূল বলছে, একুশের বিধানসভা ভোটে দিনহাটা ও ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি জিতলেও সেই আসন তারা ধরে রাখতে পারেনি। এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনে জয়ী হয় তৃণমূল। ফলে উত্তরবঙ্গের যে আসনগুলিতে স্বল্প ভোটের ব্যবধানে বিজেপি জয়ী হয়েছে, সেখানে সংগঠনকে আর একটু শক্তিশালী করলে আগামী দিনে ওই আসনগুলিও বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে আনা যাবে। 
আবার দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রেও বেশকিছু আসন রয়েছে, যেখানে একুশের ভোটে বিজেপি জিতেছিল ১০ হাজারের কম ভোটে। এই আসনগুলিও টার্গেট করেছে তৃণমূল। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সমস্ত কর্মীকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। ওইসঙ্গে জনসংযোগ করে তুলতে হবে আরও নিবিড়। তবেই ভোটবাক্সে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে। এই ব্যাপারে আশাবাদী রাজ্যের শাসক দল। 
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে উঠে এসেছে, বিধানসভা কেন্দ্র মুর্শিদাবাদ, কল্যাণী, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা, গোঘাট, ময়না, নন্দীগ্রাম, কাঁথি উত্তর, খড়্গপুর সদর, ঘাটাল, পুরুলিয়া, কাশীপুর, পাড়া, রঘুনাথপুর, শালতোড়া। তৃণমূল বলছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি জিতেছিল ১০২৯৩ ভোটে। ফলে এই আসনটিতেও আগামী দিনে জোড়াফুল ফোটানো কঠিন হবে না। এই সূত্রেই শনিবার দলের বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে বলেছেন, মালদা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সংগঠনে বাড়তি নজর দিতে হবে নেতা-কর্মীদের। এছাড়া বাঁকুড়া ১৪৬৮ ভোট, কুলটি ৬৭৯ ভোট, আসানসোল দক্ষিণ ৪৪৮৭ ভোটে জিতেছিল বিজেপি। ফলে এই আসনগুলিতে জয় ছিনিয়ে আনতে রাজনৈতিকভাবে সংগঠনের জমি শক্ত করছে তৃণমূল। 
তবে তৃণমূল এটাও নজর দিয়েছে, ৭৯টি আসনের মধ্যে বেশ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান ১০ হাজার ভোট বা তার আশেপাশে। ফলে এই কেন্দ্রগুলিতেও বাড়তি নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে।

সম্পর্কিত সংবাদ