Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১১ আসন হাতছাড়া কারণ নিয়ে কাটাছেঁড়া তৃণমূলের অন্দরে

যথেষ্ট সাংগঠনিক শক্তি থাকার পরও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১১টি আসনে হেরে কূলকিনারা পাচ্ছে না তৃণমূল। কীভাবে এত প্রার্থী হারলেন, তা নিয়েই নানা বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা উঠে আসছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আলোচনায়।

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১১ আসন হাতছাড়া কারণ নিয়ে কাটাছেঁড়া তৃণমূলের অন্দরে
  • ৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: যথেষ্ট সাংগঠনিক শক্তি থাকার পরও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১১টি আসনে হেরে কূলকিনারা পাচ্ছে না তৃণমূল। কীভাবে এত প্রার্থী হারলেন, তা নিয়েই নানা বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা উঠে আসছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আলোচনায়। অনেকে মনে করছেন, প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল থেকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়াই কাল হল। তবে কেউই এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ। তৃণমূলের কাছে দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসাবে পরিচিত ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা। তারপরও এভাবে একের পর এক আসন হাতছাড়া হবে, সেটা কল্পনা করতে পারেনি জোড়াফুল শিবিরের কেউ। তৃণমূলের অন্দরের খবর, আসন ধরে ধরে পর্যালোচনায় একাধিক কারণ উঠে এসেছে। যেমন, সোনারপুর দক্ষিণ ও গোসাবা বিধানসভায় প্রার্থী বদলের দাবি তুলেছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ। 

Advertisement

নীচুতলার কর্মীদের মধ্যেও সেই দাবি শোনা গিয়েছিল। সাধারণ মানুষের একাংশ থেকে শুরু করে দলের একাংশের মধ্যেও সোনারপুর দক্ষিণের প্রার্থী লাভলি মৈত্রকে নিয়ে তুমুল অসন্তোষ ছিল। এই কেন্দ্রেও প্রার্থী বদলের প্রসঙ্গ ওঠে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দল তাঁকেই টিকিট দেয়। বিষয়টি যে এলাকায় ভালো প্রভাব ফেলেনি, ভোটের ফলাফলেই তা স্পষ্ট। একইভাবে গোসাবাতেও সুব্রত মণ্ডলকে সরিয়ে নতুন কাউকে প্রার্থী করার কথা উঠেছিল। ভোটে দাঁড়ানোর একাধিক দাবিদারও ছিলেন। কিন্তু সেসব গুরুত্ব না দিয়ে সুব্রতবাবুকেই টিকিট দেয় তৃণমূল। দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে তৃণমূলের একটি বড়ো অংশ বিজেপিতে যোগদান করে। তাতেই ঘুরে যায় ‘খেলা’। 
অন্যদিকে, সাতগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে জিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডায়মন্ডহারবার মডেলে’ জোর ধাক্কা দিয়েছে বিজেপি। এখানে বিদায়ী বিধায়ক মোহন নস্করকে সরিয়ে জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সোমাশ্রী বেতালকে দাঁড় করানো হয়। কিন্তু তিনি আসন ধরে রাখতে পারেননি। মোহনবাবুর বিকল্প হিসাবে যাঁকে প্রার্থী করা হয়েছিল, তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে মানুষ। তাই প্রশ্ন উঠছে, সাতগাছিয়ায় প্রার্থী বদল করা কি আদৌ দরকার ছিল? বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘মোহনবাবুকে সরিয়ে আমাদেরই সুবিধা করে দিয়েছিল তৃণমূল।’ সব মিলিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই একাধিক আসনে ভরাডুবির অন্যতম কারণ বলে দাবি দলের একাংশের। তৃণমূলের অনেকের আরও দাবি, কাকদ্বীপ ও সাগরে দলীয় স্তরেই ‘সাবোতাজ’ হয়ে থাকতে পারে। টালিগঞ্জে বিদায়ী মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের হারের পিছনে যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ডের প্রভাব একটি কারণ বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তারপরও এক তৃণমূল নেতা কিছুটা হেঁয়ালি করে বলেন, ‘রাজ্যে যত আসন দল পেয়েছে, তার ২০ শতাংশই এই জেলার। এখন দেখার, কতজন জোড়া ফুলে শেষ পর্যন্ত থাকে!’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ