


সংবাদদাতা, ঘাটাল: শুক্রবার ডেবরার আকালপৌষ স্কুলমাঠে দলীয় প্রার্থীদের প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘাটালমাস্টার প্ল্যান মিথ্যাচার করেছেন বলে অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের। প্রসঙ্গত, ‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান রূপায়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ৬০শতাংশ খরচ বহন করতে রাজি ছিল। তৃণমূল সরকার সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে এক বছরের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যান কার্যকরী করবে।’ শাহের এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার বাসিন্দারা। শাহের সভা শেষ হওয়ার পর চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাস, ট্রেন কিংবা টোটো সর্বত্রই একই প্রশ্ন, একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি কী করে এই ধরনের কথা বলতে পারলেন?
বিদায়ী সেচমন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া জানান, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের অঙ্গ হিসেবে বিভিন্ন নদীতে পলি তোলার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। ঘাটাল শহরের জমা জল বের করার জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প বসানো হচ্ছে। নদীবাঁধগুলিতে স্লুইস গেট বসানোর কাজ ইতিপূর্বেই শেষ হয়েছে। যে গতিতে কাজ এগচ্ছে তাতে ২০২৭ সালে বর্ষার আগেই এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে হাস্যকর বলে দাবি করছেন অনেকে। তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, ওদের সরকার এই কাজ করতে পারবে না বলেছিল। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগেই কাজ চলছে। আসলে এসব ভাঁওতাবাজি কথাবার্তা।
প্রতি বছর বর্ষায় দুই মেদিনীপুরের ১৩টি ব্লকের ১৬৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়। দুর্ভোগে পড়েন প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ। নষ্ট হয় ফসল। বহু মানুষ মারা যায়। গবাদি পশুরও মৃত্যু হয়। এই বিস্তীর্ণ এলাকাকে বন্যার কবল থেকে মুক্ত করতে ১৯৮২সালে তদানীন্তন সেচমন্ত্রী এই প্রকল্পের শিলান্যাস করলেও কাজ এগয়নি। পরবর্তীতে এই প্রকল্পের জন্য ১৭৪০কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। যারমধ্যে প্রথম ধাপে ১২১৪ কোটি ৯২ লক্ষ টাকার কাজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ২০২২সালের ডিসেম্বর মাসে মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারীর প্রশ্নের উত্তরে লোকসভায় জলশক্তি মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বেশ্বর টুডু জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কোনও অর্থ বরাদ্দ করেনি। ২০২৩ সালের ৭ডিসেম্বর দেব সংসদে ফের প্রশ্ন তোলেন। পাঁচ বছরে মোদি সরকার এবিষয়ে কী পদক্ষেপ করেছে, তা জানতে চান। তার উত্তরেও সদর্থক কিছু শোনা যায়নি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, ২০২২সালের ১০জুন অর্থ বরাদ্দের জন্য সবুজ সংকেত মিললেও বাস্তবে কোনও তহবিল দেওয়া হয়নি। দেবের কথায়, ‘এটা থেকেই বোঝা যায়, বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গের প্রতি কী ধারণা পোষণ করে। কেন্দ্র বাংলার এই সমস্যা বোঝার চেষ্টাই করেনি।’ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দেব জানান, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের দাবি পূরণ না হলে তিনি প্রার্থী হবেন না। তাঁর এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ১২ফেব্রুয়ারি আরামবাগের এক জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেবকে পাশে রেখে ঘোষণা করেন, রাজ্য সরকারের অর্থেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। সেইমতো লোকসভা নির্বাচন মিটতেই বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করে কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। বর্তমানে সেই কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এই পরিস্থিতিতে অমিত শাহের বার্তা হাস্যকর বলে অনেকের দাবি। দাসপুর-২ ব্লকের বরুণা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুজিত বন্দ্যোপাধ্যায়, ঘাটাল ব্লকের দন্দীপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শৈবাল ঘোষ বলেন, ‘মিথ্যাচারের একটা সীমা থাকা দরকার।’