নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ডুপ্লিকেট এপিক নাম্বার তথা ভুয়ো ভোটার কার্ডের পর এবার তৃণমূলের আস্তিনে ক্লোনড আধার কার্ড। অর্থাৎ একই নম্বরের আধার কার্ড। যার সাহায্যে অনেক ক্ষেত্রেই ভুয়ো ভোটার কার্ড বানানো হচ্ছে বলেই জোড়াফুল শিবিরের অভিযোগ। তাই আগামী কাল মঙ্গলবার আধার অথরিটি আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের ৪৮ ঘণ্টা আগে চাপ বাড়াল তৃণমূল। রবিবার একপ্রকার হুঁশিয়ারির সুরেই জানিয়ে দেওয়া হল, আধার যে ক্লোন করা হচ্ছে, তার তথ্য প্রমাণ হাতে রয়েছে। সময় মতোই তা সামনে আনা হবে। ঠিক যেমন ডুপ্লিকেট এপিক নাম্বার।
আজ সোমবার সংসদে ভুয়ো ভোটার কার্ড ইস্যুতে আলোচনার জন্য মোদি সরকারকে চাপ দেবে বিরোধীরা। তৃণমূলের উদ্যোগেই এ ব্যাপারে একাট্টা মোদি বিরোধী শিবির। এমনকী ওড়িশার বিজু জনতা দলকেও এ ব্যাপারে তারা পক্ষে আনতে সক্ষম হয়েছে। তাই সম্মিলিত বিরোধীরা প্রথমে রাজ্যসভায়, পরে লোকসভায় ভুয়ো ভোটার কার্ড ইস্যুতে সরকারের ওপর চাপ বাড়াবে বলেই ঠিক করেছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনকেও ভুয়ো ভোটার কার্ড ইস্যুতে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে তৃণমূল। কমিশন ইতিমধ্যেই মেনে নিয়েছে দেশে ডুপ্লিকেট এপিক (ইলেকটোরাল ফোটো আইডেন্টিটি কার্ড) রয়েছে। এবং সেটা অনেকদিন ধরেই। কমিশনের এই স্বীকারোক্তি তৃণমূল তথা বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। কমিশনের উপর আরও চাপ বাড়াতে স্রেফ ভুয়ো ভোটার কার্ডই নয়, ক্লোন করা আধার ইস্যুর অস্ত্রও আস্তিনের নীচে রাখছে তৃণমূল।
আগামী কাল কমিশন তার বৈঠকে কী বলে দেখে নিতে চাইছে তারা। তারপর সামনে আনা হবে ক্লোনড আধার। সেই নকল আধার দিয়েই ভোটার কার্ড তৈরি হচ্ছে বলেই তৃণমূলের অভিযোগ। ভোটার ফর্ম ৬বি তে স্পষ্ট করে আধার সংযুক্তিকরণ সম্পর্কে কিছু বলা নেই। দেওয়া আছে দুটি ‘অপশন’। ১) এন্টার দ্য আধার নাম্বার। অর্থাৎ আধার নাম্বার লেখো। অথবা ২) আমি আধার নাম্বার দিতে পারছি না, কেন না আমার আধার নেই। অর্থাৎ ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার সংযুক্তিকরণের বিষয়টি যে ঐচ্ছিক, তা স্পষ্ট করে বলা নেই। তাই তৃণমূলের প্রশ্ন, কেন এ ব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট করেনি নির্বাাচন কমিশন। যদিও তৃণমূল নিজে আধার-ভোটার কার্ড সংযুক্তিকরণের পক্ষে, না বিপক্ষে? এখনই তা বলতে নারাজ। দলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, আগে কমিশনের বৈঠকে কী হয় দেখতে চাই। তারপর সময় মতোই ক্লোনড আধার ইস্যু স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। আমাদের সওয়াল, কমিশন কি নিশ্চিত করে বলতে পারবে যে, ক্লোনড আধার কার্ড দিয়ে ভোটার কার্ড তৈরি করা হচ্ছে না?