Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলাদেশ লাগোয়া ৭ বিধানসভার ছ’টিতে নতুন মুখে ভরসা তৃণমূলের

২৬-এর বিধানসভা ভোটে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার একটি বাদে সবক’টি কেন্দ্রে নতুন মুখ আনল তৃণমূল। একমাত্র মিনাখাঁয় টিকিট পেয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক ঊষারানি মণ্ডল

বাংলাদেশ লাগোয়া ৭ বিধানসভার ছ’টিতে নতুন মুখে ভরসা তৃণমূলের
  • ১৮ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ২৬-এর বিধানসভা ভোটে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার একটি বাদে সবক’টি কেন্দ্রে নতুন মুখ আনল তৃণমূল। একমাত্র মিনাখাঁয় টিকিট পেয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক ঊষারানি মণ্ডল। বাদুড়িয়ায় তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন বুরহানুল মোকাদ্দিম, বসিরহাট দক্ষিণে সুরজিৎ মিত্র ওরফে বাদল, বসিরহাট উত্তরে তৌসিফ রহমান, হিঙ্গলগঞ্জে আনন্দ সরকার, সন্দেশখালিতে ঝর্না সর্দার এবং হাড়োয়ায় আব্দুল মাতিন। প্রসঙ্গত, তৃণমূলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার আসনগুলি বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বা আশপাশের এলাকা। এখানে এক ঝাঁক নতুন মুখকে প্রার্থী করা তৃণমূলের কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Advertisement

কী সেই কৌশল? তৃণমূল নেতৃত্বের ব্যাখ্যা, গত কয়েক বছরে একাধিক বিধায়ককে নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। রয়েছে নানারকম অভিযোগ। সব মিলিয়ে স্থানীয় স্তরে ক্ষোভের কারণে দলের উপর চাপ বাড়ছিল। ভোটের আগে সেই চাপ কমানো এবং ভাবমূর্তি পুনর্গঠন—এই দুই লক্ষ্য নিয়ে প্রার্থী বদল করা হয়েছে। কারণ, দল মনে করছে, তুলনামূলক ‘ক্লিন ইমেজ’-এর নতুন প্রার্থী ভোটারদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হবেন। বিশেষ করে সন্দেশখালি, হাড়োয়া ও বসিরহাট উত্তরের মতো স্পর্শকাতর কেন্দ্রে এই কৌশল আরও তাৎপর্যপূর্ণ। এসব জায়গায় এবারের প্রার্থীরা দীর্ঘদিন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তেমন আলোচনায় ছিলেন না। কিন্তু স্থানীয় স্তরে তাঁদের যোগাযোগ এবং নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আশাজনক বলে মনে করেছে দল। তৃণমূল মনে করছে, মানুষের কাছে পৌঁছানোর ক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত ফারাক গড়ে দেবে। তবে দলের একাংশের মতে, এই কৌশল ঝুঁকিমুক্ত নয়। অল্প সময়ে সংগঠনকে শক্ত করা, স্থানীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামলানো এবং ভোটারদের আস্থা অর্জন—সবটাই যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের। অভিজ্ঞতার অভাবও কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। কিন্তু, তৃণমূল নেতৃত্বের বিশ্বাস, তরতাজা নতুন মুখ এবং বিতর্কমুক্ত ভাবমূর্তিই ঘাটতি পুষিয়ে দিতে পারে। 
বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে দলের হয়ে কাজ করছি। দল আমাকে প্রার্থী করে যে আস্থা দেখিয়েছে, তার মর্যাদা রক্ষা করব।’ আরেক প্রার্থী বুরহানুল মোকাদ্দিম বলেন, ‘আমাদের দলে আমরা কেউ নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে নির্বাচন হবে। তবে এটুকু বলতে পারি ২০২১ সালের থেকে বেশি মার্জিনে আমরা জিতব।’ এদিকে, বিজেপি নেতা পলাশ সরকার বলেন, ‘তৃণমূল আসলে ব্যর্থতা ঢাকতেই নতুন মুখ আনছে।’ নতুন মুখের উপর আস্থা রেখে তৃণমূল একটি পরিবর্তনের বার্তা দিতে চেয়েছে। এই পরিবর্তন ভোটে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটাই এখন দেখার।  বসিরহাট দক্ষিণের প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ