সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: এবারের ভোটে কোন দিকে ঝুঁকছে শ্যামপুর? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে গাদিয়াড়ার বুকে। জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র এটি। বিজেপির দাবি, কালীপদ মণ্ডল টানা পাঁচবার বিধায়ক হয়েও গাদিয়াড়াকে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে পারেননি। নদীপাড়ের এই জনপদকে পর্যটনমুখী করে তুলতে পারলে গোটা শ্যামপুরের অর্থনৈতিক বিকাশ সম্ভব হতো। শাসকদল পালটা যুক্তি দিয়ে বলেছে, গত ১৫ বছর ধরে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা দেখতে পাচ্ছে না বিরোধীরা। উন্নয়নের কাজ কোনোদিন বন্ধ শেষ হয় না। শুধু বিরোধিতা করাই বিরোধীদের উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক তরজা যাই হোক না কেন, পরিসংখ্যান কিন্তু অন্য কথা বলছে। গত বিধানসভা ভোটে শ্যামপুরে তৃণমূল প্রার্থী কালীপদ মণ্ডল ৩১ হাজার ৫১১ ভোটে হারিয়েছিলেন বিজেপির তনুশ্রী চক্রবর্তীকে। শতাংশের বিচারে তৃণমূল পেয়েছিল ৫২ শতাংশ ভোট। উলটোদিকে বিজেপি পেয়েছিল ৩৭.৭ শতাংশ ভোট। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভোট কিছুটা কমে হয়েছিল ৫১.৯৯ শতাংশ আর বিজেপির ভোট বেড়ে হয়েছিল ৩৮.২৯ শতাংশ। এই সামান্য ভোট বৃদ্ধিতে আশার আলো দেখছে বিজেপি। দলের হাওড়া গ্রামীণ জেলার সম্পাদক কৌশিক চক্রবর্তী বলেন, গতবার এই কেন্দ্রে বহিরাগত প্রার্থী থাকায় সুবিধা মেলেনি। এবার আমরা ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে যিনি প্রার্থী হন না কেন, শ্যামপুরে বিজেপির জয় কেউ আটকাতে পারবে না। তাঁর অভিযোগ, কালীপদবাবু এত বছর বিধায়ক থাকলেও নদীবাঁধ ও খাল সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেননি তিনি। এখানে ভালো হাসপাতাল না থাকার কারণে এখনও রাতবিরেতে সাধারণ মানুষকে উলুবেড়িয়ায় ছুটতে হয়। ফলে সাধারণ মানুষ তৃণমূলের বিপক্ষেই ভোট দেবেন। এই মিরাক্কেলের আশাতেই দিন গুনছে বিজেপি। বিজেপির এই ভাবনাকে অলীক স্বপ্ন বলে দাবি করেছেন শ্যামপুর কেন্দ্রের তৃণমূল সভাপতি নদেবাসী জানা।



