Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এক শতাংশের কম ভোটে হাতছাড়া গাজোল দখলে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল

জেলা সদর থেকে ৩০ কিমি দূরত্বে থাকা গাজোল বিধানসভা কেন্দ্রটি দখলে রাখতে বিজেপি মরিয়া হলেও নির্বাচনি পাটিগণিত খুব একটা সহজ নয় গেরুয়া শিবিরের জন্য

এক শতাংশের কম ভোটে হাতছাড়া গাজোল দখলে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল
  • ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌম্য দে সরকার, মালদহ: জেলা সদর থেকে ৩০ কিমি দূরত্বে থাকা গাজোল বিধানসভা কেন্দ্রটি দখলে রাখতে বিজেপি মরিয়া হলেও নির্বাচনি পাটিগণিত খুব একটা সহজ নয় গেরুয়া শিবিরের জন্য।

Advertisement

২০২১ সালে মাত্র ১৭৯৮ ভোটে এই কেন্দ্রে হেরে যায় তৃণমূল কংগ্রেস। বিজয়ী বিজেপি প্রার্থী চিন্ময়দেব বর্মনের কাছে মাত্র এক শতাংশেরও কম ভোটের ব্যবধানে হেরে যান তৃণমূলের শিক্ষিকা প্রার্থী বাসন্তী বর্মন। তবে, তৃণমূল নেতৃত্ব বুঝতে পারে এক সময়ের বাম দুর্গ গাজোল বিধানসভায় জয়ী হওয়া  দুঃসাধ্য নয়। তারপর থেকেই শুরু হয় সলতে পাকানোর কাজ। গাজোলে একাধিক সরকারি অনুষ্ঠানে এসে মানুষের উষ্ণ অভ্যর্থনা পান মুখ্যমন্ত্রী। এবার বিজেপি প্রার্থীকে হারাতে তাই তৃণমূলের বাজি দলের যুব সংগঠনের জেলা সভাপতি তরুণ তুর্কি প্রসেনজিত্‌ দাস। ফলে নির্বাচন জমে গিয়েছে গাজোলে।
দলের বিদায়ী বিধায়ক তথা বর্তমান প্রার্থীকে নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের ক্ষোভে বারবার জেরবার হয়েছে উত্তর মালদহের বিজেপি নেতৃত্ব। পরিস্থিতি সামাল দিতে অমিত শাহকে এনে গাজোলে সভা করাতে হয়েছে বিজেপিকে। দলীয় সমর্থকদের একাংশের বক্তব্য, প্রচারে বিধায়কের কাজ জানতে চাইছেন ভোটাররা। গত পাঁচ বছরে বিধায়ক উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন বলে আমাদের মনে পড়ছে না। 
তবে তৃণমূল প্রার্থী প্রসেনজিত্‌ লড়াইয়ে একটুও ঢিলে দিতে নারাজ। সূর্যের আলো ফুটতেই তিনি ছুটছেন গাজোলে। অলিগলিতে ঢুকে পড়ছে প্রসেনজিতের ভোট প্রচারের গাড়ি। তাঁর হয়ে প্রচার করছে তরুণ প্রজন্ম। তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে প্রচারে আসছেন টলিউডের অভিনয় মহলও। সব মিলিয়ে চমকে দেওয়ার মতো লাগাতার প্রচারে গাজোলে বিজেপির রক্তচাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী।
তাঁকে ‘বহিরাগত’ বলে প্রচার করছেন বিরোধীরা। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করতে হাসতে হাসতে প্রসেনজিত্‌ বলেন, মালদহের ছেলে হয়ে যদি আমি গাজোলে বহিরাগত হই, তবে এখানে প্রচার করতে আসা অমিত শাহকে কী বলবেন! আমি জিতলে গাজোলকে ইংলিশবাজারে আসতে হবে না। আমিই গাজোলে আসব। আর বিধায়ক নির্বাচিত হলে গাজোলকে পুরসভা বানানো আমার চ্যালেঞ্জ।
চিন্ময়দেবতাঁর প্রচারে বলছেন, বিজেপির বিধায়ক হওয়ায় কীভাবে তাঁকে গাজোলের উন্নয়ন করার ক্ষেত্রে বাধা দিয়েছে তৃণমূল সরকার। মালদহ উত্তর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি প্রতাপ সিংহের বক্তব্য, দল আমাদের কাছে পরিবার সমান। পরিবারে মান অভিমান থাকে। আবার পরিবারের সদস্য ভোটের ময়দানে নামলে সকলে মিলে তাঁর জয় নিশ্চিত করতে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। গাজোলে এবার আমাদের জয়ের ব্যবধান কয়েক গুণ বাড়তে চলেছে।
গাজোলে প্রার্থী দিতে এমনিতেই দেরি করেছে কংগ্রেস। পরে আবার প্রার্থী বদলও করে। ফলে প্রচারে এবং মনোবলে বেশ কিছুটা পিছিয়ে হাত শিবির। তবে, জেলা কংগ্রেস সভাপতি ঈশা খান চৌধুরী বলেন, গাজোলে আমরা ভালো ভোট পাব।
তেভাগা আন্দোলনের সুবাদে ১৯৭৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত গাজোলে প্রশ্নাতীত জয় পেয়ে এসেছিল সিপিএম। ২০১৬ সালেও জেতে। কিন্তু এবার গাজোলে সিপিএম প্রার্থী ক্ষিতীশ সরকারের প্রচার যেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। তবে, হাল ছাড়ছেন না তিনি। সিপিএমের জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্রের দাবি, এবার নির্বাচনে গাজোল পুনরুদ্ধার করবেন তাঁরা।

সম্পর্কিত সংবাদ