


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: প্রতিটি নির্বাচনে তৃণমূলের কাছে দেগঙ্গা ‘সেফ’ আসন বলেই পরিচিত। তাই এবার আলোচনা শুরু হয়েছে রেকর্ড নিয়ে। জয়ের আগের ব্যবধান শুধু অটুট রাখাই নয়, তা ভেঙে আরো বড়ো রেকর্ড গড়ার লক্ষ্য নিয়েই নেমেছেন তৃণমূল প্রার্থী আনিসুর রহমান ওরফে বিদেশ। শুরু হয়ে গিয়েছে তাঁর পক্ষে দেওয়াল লিখন ও বাড়ি বাড়ি প্রচার। প্রচারের আগে সংগঠন গোছাতে বাড়তি জোর দিচ্ছেন তিনি। দলীয় সূত্রে খবর, ‘ভূমিপুত্র’ হিসেবে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই বিধানসভার প্রথম সারির নেতৃত্বদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ শুরু করেছেন বিদেশ। ফোনে প্রাথমিক আলোচনা সেরে সশরীরে বৈঠকেও বসছেন তিনি। বিশেষ করে টিকিট বণ্টনকে ঘিরে যে অসন্তোষের ইঙ্গিত মিলেছিল, তা মেটাতে উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠক শুরু হয়েছে। নেতৃত্বদের কাছে, ভোটের মুখে কোনো বিভাজন না রাখারই আরজি প্রার্থীর।
তবে, দেগঙ্গার নির্বাচনি অঙ্ক শুধু দলীয় সমীকরণে আটকে নেই। এই বিধানসভা আসন মুসলিম সম্প্রদায় অধ্যুষিত হওয়ায় সংখ্যালঘু ভোট এখানে নির্ণায়ক ভূমিকা নেয়। এতদিন এই ভোটের বড়ো অংশ তৃণমূলের দিকে থাকলেও এবার সেই সমীকরণে চাপ তৈরি করতে পারে আইএসএফ। এমনই কানাঘুষো আলোচনা চলছে দলের অন্দরে। এলাকায় ধীরে ধীরে সংগঠন বৃদ্ধির চেষ্টা করছে তারা। ফলে মুসলিম ভোটের একটি অংশ সরে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে তৃণমূলের ব্যবধানে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আর এই সম্ভাবনাকেই সামনে রেখে বিরোধীরা তৃণমূলকে চাপে রাখার কৌশল নিচ্ছে।
বিরোধীদের দাবি, সংখ্যালঘু ভোটে রাজ্যের শাসক দলের আর একতরফা প্রভাব নেই। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব প্রকাশ্যে সেই দাবি খারিজ করে বলছে, উন্নয়ন এবং সংগঠনের জোরেই তারা আগের ফল ধরে রাখার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। পাশাপাশি, সংখ্যালঘু এলাকায় আলাদা করে প্রচার ও যোগাযোগ বৃদ্ধির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। টিকিটের দাবিদার একাধিক নেতা থাকায় যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি মিটেছে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিরোধীরা সেই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করছে। যদিও উভয়পক্ষের বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে দল।
সব মিলিয়ে দেগঙ্গা বিধানসভা আসনের সমীকরণ এবার ত্রিমুখী—রেকর্ড মার্জিনের লক্ষ্য, দলীয় অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য এবং মুসলিম ভোটের সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাস। তিনটি ফ্যাক্টরই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করবে। তবে, তৃণমূল প্রার্থী বিদেশের যুক্তি, ‘দেগঙ্গার মানুষ সবসময় উন্নয়নের পক্ষে। আমি দেগঙ্গার ভূমিপুত্র হওয়ায় গোটা এলাকা হাতের তালুর মতোই চিনি। আমাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। স্থানীয় সব নেতার সঙ্গেই আমি আলোচনা করেছি—হয় ফোনে নয়তো সশরীরে দেখা করে। কদিন পরেই থাকবে বড়ো চমক—যোগদান!’ এদিকে বিজেপি প্রার্থী তরুণকান্তি ঘোষ বলেন, ‘মানুষের ক্ষোভ তৃণমূলের প্রতি কীভাবে জমে আছে তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। ওদের হার নিশ্চিত।’ তবে, আইএসএফ নেতা শেখ সিরাজুলের কথায়, ‘দেগঙ্গায় এবার তৃণমূলের কপালে দুঃখ আছে।’