


সংবাদদাতা, রানাঘাট: শান্তিপুর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী ব্রজকিশোর গোস্বামী উন্নয়নের একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে করছেন জনসংযোগ। স্বাস্থ্য পরিষেবা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও গঙ্গা ভাঙন রোধ এই তিন বিষয়কেই ব্রজকিশোর তাঁর প্রচারের প্রধান হাতিয়ার করেছেন। প্রতিদিন সকাল থেকেই স্থানীয় বাজার, পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে মানুষের সমস্যার কথা শুনছেন। বড় সভার পাশাপাশি ছোটো বৈঠক সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের বার্তাই তুলে ধরছেন প্রার্থী ব্রজকিশোর। তাঁর কথায়, শান্তিপুরের মানুষকে আরও ভালো পরিষেবা দেওয়াই একমাত্র লক্ষ্য। গত কয়েক বছরে যা কাজ হয়েছে, তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে উন্নয়ন হবে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন ব্রজকিশোর। তিনি জানান, শান্তিপুরের হাসপাতালে আগের চেয়ে পরিষেবা অনেক ভাল হয়েছে। আগামীতে আরও উন্নয়ন হবে ওখানে। এমআরআই, এন্ডোস্কোপির মতো অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা যাতে হাসপাতালে মেলে, সেই অনুযায়ী মেশিন আনার ব্যবস্থা করতে হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে সবসময় দূরে যেতে হবে না। একই সঙ্গে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিরও হবে সংস্কার।
তৃণমূল প্রার্থী বলেন, শান্তিপুরে বর্তমানে কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেকটাই কমে এসেছে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। এখানের তাঁত শিল্পের যে প্রভাব ও প্রসার ছিল সেটা আজ অনেক ম্লান হয়েছে। এর অন্যতম কারণ নতুন তাঁতি উঠে না আসা। তাঁত শিল্প শান্তিপুরের গর্ব, তাই এই শিল্পকে আমাদের বাঁচাতেই হবে। গঙ্গা ভাঙন রোধ নিয়ে ব্রজকিশোরবাবু বলেন, আমার সময়ে গঙ্গা ভাঙন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। কোনও বাড়ি ভেঙে গঙ্গায় তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। আগামী দিনে স্থায়ী ভাবে যাতে গঙ্গা ভাঙন রোধ হয় তারই পরিকল্পনা করা হবে। পাশাপাশি নিজের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তৃণমূল প্রার্থী বলেন, শান্তিপুরে একটি আধুনিক অডিটোরিয়ামের কাজ শুরু হয়েছে, যা শেষ হলে সাংস্কৃতিক বিষয়ে নয়া দিগন্ত খুলবে। এছাড়াও একটি ব্লাড সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে, যার ফলে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায় অনেক সুবিধা হয়েছে মানুষের। শিক্ষাক্ষেত্রেও স্মার্ট ক্লাসরুম চালু, নতুন বিষয় সংযোজনের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জয়ের ব্যবধান নিয়ে ব্রজকিশোর জানান, জয়ের মার্জিন শুধু একটি সংখ্যা মাত্র। আমরা মানুষের ভালোবাসা, আস্থা ও সমর্থন নিয়েই আবার জয়ী হতে চাই।
এদিকে, শান্তিপুরের বিজেপি প্রার্থী স্বপন কুমার দাস বলেন, তাঁত শিল্পটাকে তৃণমূলের সরকার পুরো শেষ করে দিয়েছে। সেটাকে পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন করতে হবে।
সিপিএম প্রার্থী সৌমেন মাহাতো বলেন, নদী ভাঙন এলাকার খুব বড় সমস্যা। বস্তা দিয়ে অস্থায়ী ভাবে ভাঙন রোধ হয়েছে। এটাকে স্থায়ী ভাবে করতে হবে। পাশাপাশি কংগ্রেস প্রার্থী অলোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, শান্তিপুরের অর্থনীতি একসময় যার উপর দাঁড়িয়ে ছিল, সেই তাঁত আজ ধ্বংসের মুখে। একে বাঁচানোর জন্যই আমাদের লড়াই।