শুভদীপ পাল, সিউড়ি: ভোট ময়দানে মানুষের মন রাঙাতে দোল উৎসবকে হাতিয়ার করছে বীরভূমের তৃণমূল ও বিজেপি। ফলে, জেলার কোথাও সবুজ আবিরে খেলা হবে। কোথাও গেরুয়া আবিরে। কোথাও মিষ্টি বিলি তো কোথাও জল-বাতাসা। দু’দলের উদ্দেশ্য একটাই—জনসংযোগ। তবে, হোলির রংয়ে রাজনীতির রং মেশাতে চায় না কংগ্রেস ও সিপিএম। তারা এসআইআরে অসংগতির প্রতিবাদে নিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করবে বলে খবর।
জানা গিয়েছে, জেলা থেকে শুরু করে একদম বুথস্তর পর্যন্ত দোল উৎসব পালনে প্রস্তুতি শুরু করেছে সবুজ ও গেরুয়া শিবির। আসলে, উৎসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সহজেই মানুষের মন জয় করা যায়। মঙ্গলবার দোলপূর্ণিমা। সেদিন রং খেলাকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে তৎপর তৃণমূল ও বিজেপি। রাজনীতি বর্জিত দোল উৎসব চেয়ে সমদূরত্ব বজায় রাখতে চায় কংগ্রেস ও সিপিএম। বীরভূম জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি সঞ্জয় অধিকারী বলেছেন, আপামর বাঙালির উৎসব দোল। সেই উৎসবে রাজনীতির রং লাগাতে চাই না। সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য দীপঙ্কর চক্রবর্তীর কথায়, দোল উৎসবে আমাদের পার্টির তরফে সবাইকে শুভেচ্ছা। লাল আবিরে রাজনীতির রং আমরা চাই না। তা ছাড়াও ওইদিন এসআইআর নিয়ে পার্টির বেশ কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে কর্মীরা অংশগ্রহণ করবে। এদিকে, তৃণমূল সূত্রে খবর, দোলের দিন জেলাজুড়ে নানান জায়গায় নানান অনুষ্ঠান হয়। সেই সমস্ত অনুষ্ঠানে নেতা ও কর্মীদের অংশগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শাসক দলের তরফে জেলাজুড়ে দোল উৎসব পালন করা হবে। সিউড়িতে একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রঙের উৎসব হবে। সেখানে মিষ্টি বিলি করা হবে। এছাড়া, জেলা তৃণমূলের পাশাপাশি, প্রতিটি ব্লক থেকে শুরু করে একদম বুথস্তরেও সাধারণ মানুষকে নিয়ে উৎসব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা সমস্ত রকম উৎসব অনুষ্ঠানে সারা বছরই অংশগ্রহণ করে থাকি। ব্যতিক্রম হবে না দোল উৎসবেও। জেলাজুড়ে বুথে বুথে দোল উৎসব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নানা অনুষ্ঠানও করার কথা বলা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গেরুয়া শিবির সূত্রে জানা গিয়েছে, দোল উপলক্ষে সিউড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাঁদের একটি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সাঁইথিয়ার ইউনিয়ন বোর্ড মোড় এবং রামপুরহাট শহরেও একই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিজেপি নেতাদের দাবি, ওই দিন দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আবির খেলা হবে। যাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ আরও বাড়ানো যায়। বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা জেলা থেকে শুরু করে একদম মণ্ডলস্তরে এই দোল উৎসব পালন করবে। যেখানে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আবির খেলা হবে।
দোলকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই নানান রঙে ও পিচকারির সম্ভারে সেজে উঠেছে শহরের দোকানপাটগুলি। ইতিমধ্যেই ব্যাপক বিকিকিনি হচ্ছে। সিউড়ি বিক্রেতা সোমনাথ মালাকার, রাহুল ঘোষ বলেন, সব রঙের আবিরের ভালো রকম চাহিদা রয়েছে৷ দিন দুয়েক আগে থেকেই বিকিকিনি শুরু হয়েছে।