নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ‘জন্ম হলে শিশুসাথী। খিদে পেলে খাদ্যসাথী। স্কুলে যেতে সবুজসাথী, অসুস্থ হলে স্বাস্থ্যসাথী।’ সরকারি প্রকল্পগুলিকে ছড়ার আকারে তুলে ধরা শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনের এখনও ঢের বাকি। তার আগেই বিরোধীদের পিছনে ফেলে দেওয়াল বুক শুরু করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কুলটি, নিয়ামতপুর এলাকায় দেওয়াল মার্কিং হয়ে গিয়েছিল। এবার দেওয়াল লিখনও শুরু হয়ে গেল। শিল্পাঞ্চলে কার্যত প্রথম বিধানসভা ভোটের দেওয়াল লিখন শুরু হল রানিগঞ্জে। এক সময়ে সিপিএমের গড় রানিগঞ্জের গির্জাপাড়া থেকেই তৃণমূলের দেওয়াল লিখন নজরে পড়ছে।
শুধু সরকারি প্রকল্পকে তুলে ধরাই নয়, তার সঙ্গে থাকছে ঝাঁঝালো স্লোগানও। যেমন, ‘যতই নাড়ো কলকাঠি, নবান্নে আবার হাওয়াই চটি’ কিংবা ‘জনগণের গর্জন, বাংলা বিরোধীদের বিজর্সন।’ বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করেও দেওয়াল লিখন চলছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘দরকার ছিল ভাত, ধরিয়ে দিল জাত। দরকার ছিল কর্ম, ধরিয়ে দিল ধর্ম।’
বলা বাহুল্য বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য সরকারের জনমুখী সরকারি প্রকল্পই তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় ভরসা। তাই পাড়ায় পাড়ায় উন্নয়নের পাঁচালি মানুষকে শোনানো হচ্ছে। কিন্তু আজও ভোটের প্রচারে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হিসাবে ধরা হয় দেওয়াল লিখনকেই। প্রাচীন এই ভোট প্রচার পদ্ধতি দিয়েই এবারের নির্বাচনের প্রচার সবার আগে শুরু করল তৃণমূল। সেখানেই সরকারি প্রকল্পকে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত। আসানসোল পুরসভার ৯১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত এই এলাকা। কাউন্সিলার রাজু সিং বলেন, রানিগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত। এখানে বিজেপির কোনো সংগঠন নেই। সিপিএমকে মানুষ পছন্দ করে না। সরকারি প্রকল্পগুলি মানুষকে স্মরণ করাতেই এই উদ্যোগ।
রানিগঞ্জের সিপিএমের এরিয়া সম্পাদক সুপ্রিয় রায় বলেন, রানিগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল প্রবল। দেওয়াল দখল করা নিয়েও নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। তাই এক পক্ষ আগে দেওয়াল লিখন শুরু করেছে। মানুষের কাছে এদের গ্রহণযোগ্যতা নেই।
বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক তাপস রায় বলেন, দেওয়ালে বিজেপির নামে কুৎসা লিখে মানুষের বিভ্রান্ত করতে পারবে না তৃণমূল কংগ্রেস। রানিগঞ্জে শহরকে কয়েক দশক পিছিয়ে দিয়েছে মমতার সরকার।