


মুম্বই: ১৯৮৩’র বিশ্বকাপ জয় পাল্টে দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটের গতিপথ। কপিল দেবের নেতৃত্বে লর্ডসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানো হয়ে উঠেছিল যুগান্তকারী। একইভাবে ২০২৫ সালের নভি মুম্বই এদেশে মহিলাদের ক্রিকেটেও লিখল নতুন ইতিহাস। বাড়ির মেয়েকে এবার থেকে ক্রিকেটার বানানোর কথা ভাবতেই পারেন অভিভাবকরা। বিশ্বকাপজয়ী ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীত কাউর অন্তত তেমনটাই মনে করছেন।
ট্রফি হাতে করেই রবিবার রাতে প্রচারমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। প্রশ্নের উত্তরে সাফ বলেন, ‘অনেক বছর ধরেই এই মুহূর্তটার অপেক্ষায় ছিলাম। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলছিলাম। কিন্তু বড় আসরে কিছুতেই মোক্ষলাভ হচ্ছিল না। সেজন্য একটা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খুব দরকার ছিল। এই জয়টা ছাড়া আমরা কোনও পরিবর্তনের আশ্বাসবাণী শোনাতে পারতাম না। দিনের শেষে সমর্থকরা প্রিয় দলের জয়ই তো দেখতে চান। বিশ্বকাপ জেতার তাৎপর্য এখানেই। রবিবারের রাত তাই দেশের মহিলা ক্রিকেটে যথার্থ অর্থেই স্বপ্নপূরণের মঞ্চ। জানি না, এই আনন্দ ঠিক কীভাবে প্রকাশ করব। তবে আমি এই দলের জন্য গর্বিত।’
উৎসবের সময় ঝুলন গোস্বামী, মিতালি রাজ, অঞ্জুম চোপড়াদের মাঠে ডেকে নিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। বহুবার স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণায় রক্তাক্ত হয়ে ব্যাট-বল তুলে রাখা সিনিয়রদের হাতে বিশ্বকাপ তুলে দেন হরমনপ্রীত। এমন মুহূর্ত ভারতীয় ক্রিকেটে দুর্লভ। এরপর পূর্বসূরিদের কুর্নিশ জানিয়ে উইনিং ক্যাপ্টেন বলেন, ‘আমি যখন প্রথম জাতীয় দলে আসি, তখন ঝুলনদি ছিল আমার সবচেয়ে বড় ভরসা। ওই তখন ক্যাপ্টেন। শুরুর দিনগুলোয় আমাকে খুবই গাইড করত। আমি তখন সবকিছু ঠিকঠাক বুঝতামও না। অঞ্জুমদির কথাও বলতে হবে। ওর থেকেও অনেক কিছু শিখেছি। আর মিতালির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অনেক কঠিন লড়াইয়ের শরিক হয়েছি। আজ ওদের সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতে পেরে গর্বিত।’
দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লিগে পরপর হেরেছিল ভারত। তখন সেমি-ফাইনালের রাস্তাই অনিশ্চিত দেখাচ্ছিল। প্রবল সমালোচিতও হয় টিম ইন্ডিয়া। তা সত্ত্বেও নিজেদের উপর আস্থা না হারাননি হরমনপ্রীতরা। তাঁর কথায়, ‘কোনও কিছুই পরিকল্পনামাফিক হচ্ছিল না তখন। ইংল্যান্ড ম্যাচের পরাজয় তো আমাদের কাছে হৃদয়বিদারক ছিল। কোচ বলেছিলেন, তোমরা একই ভুল বারবার করতে পারো না। এটা থেকে বেরতেই হবে। আর সেই ক্ষমতা তোমাদের রয়েছে। তারপরই বদলে যায় গোটা দলের চেহারা। পারতেই হবে, মনে মনে শপথ নিই সকলে। মাঠ বদলও আমাদের কাছে পয়মন্ত হয়েছে। আমরা পেরেওছি। শেষটা মধুর হওয়ার চেয়ে ভালো আর কিছুই হয় না।’