Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬

ভোটারদের নাম বাদের অভিযোগ থাকলে নিষ্পত্তি করবে ট্রাইব্যুনাল, কমিশনের ক্ষমতায় সুপ্রিম কোপ

কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না। সেই কারণেই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা ছুটি ভুলে দিনরাত কাজ করছেন

ভোটারদের নাম বাদের অভিযোগ থাকলে নিষ্পত্তি করবে ট্রাইব্যুনাল, কমিশনের ক্ষমতায় সুপ্রিম কোপ
  • ১১ মার্চ, ২০২৬ ০৮:০৩

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না। সেই কারণেই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা ছুটি ভুলে দিনরাত কাজ করছেন। নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত যাঁদের আবেদনের নিষ্পত্তি হয়ে যাবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলায় এভাবেই অবস্থান স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এবং কমিশনের ক্ষমতা ছেঁটে পাশে দাঁড়াল সাধারণ মানুষের। দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, নাম বাদ নিয়ে যদি কারও কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তার নিষ্পত্তিও আর কমিশন করবে না। সেটা পুরোপুরি দেখবে এই সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল। ভোট ঘোষণার পরও যদি বিপুল সংখ্যক ভোটারের সমস্যা থেকে যায়, সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। ফলে ২৫ মার্চ পরবর্তী শুনানি তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

Advertisement

নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ যখন বাংলায় তাদের কর্তৃত্ব জাহির করছে, ঠিক সেই সময় সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। শুনানি শেষে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি আর মহাদেবানন্দর বেঞ্চের নির্দেশেই জ্ঞানেশ কুমারদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ পেয়েছে। তা না হলে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দিত না আদালত। বেঞ্চ জানিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের বর্তমান প্রধান বিচারপতি এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দেবেন। 
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’। তারই নিষ্পত্তি করতে পশ্চিমবঙ্গের বিচারকদের পাশাপাশি, ওড়িশা-ঝাড়খণ্ডের বিচারকরাও দায়িত্ব নিয়েছেন। দেশের প্রধান বিচারপতি জানান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি (সুজয় পাল) আমাদের  চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, ‘এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষ ১৬ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লক্ষ ৪ হাজার বাদ গিয়েছেন।’ নজর করার মতো প্রধান বিচারপতির পবরর্তী মন্তব্য—‘আমরা জানতে পেরেছি, যাচাইয়ের জন্য কমিশন যে লগ ইন আইডি তৈরি করে দিয়েছে, তাতে সমস্যা হচ্ছে।’ তাই আদালতে উপস্থিত কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডুকে প্রধান বিচারপতির নির্দেশ, ‘যে ৭০৯টি লগ ইন আইডি তৈরি হয়েছে, তার সমস্যা দ্রুত মেটান। প্রয়োজনে নতুন আইডি তৈরি করুন।’
এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘তাহলে কেন অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করছে না কমিশন? সুপ্রিম কোর্ট তো গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্দেশ দিয়েছিল, অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হবে।’ তখনই প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এ ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ঠিক করবেন, কবে বেরোবে তালিকা। তিনিই নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেবেন।’ শুনানির পর্যবেক্ষণে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘ভোটাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার। তাই আমাদের নির্দেশ কমিশনকে মানতেই হবে। অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করতেই হবে। কেন নাম বাদ গেল, তা সংশ্লিষ্ট ভোটারকে জানাতে বাধ্য কমিশন। তবেই তো তিনি পরবর্তী আবেদন করতে পারবেন।’ 
নিয়ম হল, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন পর্যন্ত নতুন ভোটাররা নাম তোলার আবেদন করতে পারেন। অর্থাৎ, ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে তাঁরা ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারেন। যদিও কমিশনের পরামর্শ, নতুন ভোটারদের তার ১০ দিন আগে আবেদন সেরে ফেলা ভালো। কারণ, আধিকারিকদের যাচাইয়ে ওইটুকু সময় দিতে হয়। তবে এসআইআর তালিকা থেকে যদি তার পরও নাম বাদ যায়, তাঁরা কীভাবে এই পরামর্শ মানতে পারবেন, তার সমাধানসূত্র কমিশন দেয়নি। 

সম্পর্কিত সংবাদ