কমিশনের ওয়েবসাইটে ‘অ্যাকসেস’ নেই ট্রাইবুনালের! পুরভোটে কলকাতা-হাওড়ার দেড় লক্ষ ভোটার অন্ধকারেই
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। ওয়ার্ড ডিলিমিটেশন থেকে ইভিএম পরীক্ষা—সব কাজই চলছে জোরকদমে। তবে কলকাতা ও হাওড়া পুর এলাকায় গত এসআইআরে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া দেড় লক্ষেরও বেশি ভোটারদের ভাগ্য সেই বিশ বাঁও জলে। আদৌ তাঁরা পুর নির্বাচনে ভোটদানের অধিকার ফিরে পাবেন কি না, তা নিয়ে জটিলতা অব্যাহত। সৌজন্যে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সেই বিতর্কিত ওয়েবসাইট ‘ইসিআইনেট’। সূত্রের খবর, ট্রাইবুনালে কর্মরত বিচারপতিদের কমিশনের ওই ওয়েবসাইটে কোনো ‘অ্যাকসেস’ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার পর ট্রাইবুনালে আবেদনকারী ভোটারের আবেদন নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত নির্দেশনামা বিচারপতিরা আপলোড করতে পারছেন না। বলা ভালো, তাঁদের সেই সুযোগই দিচ্ছে না কমিশন। 

Advertisement

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভায় মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার ‘ডিলিটেড’ ভোটার আবেদন জানিয়েছেন অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালে। হওড়া পুরসভায় সংখ্যাটা ৩৯ হাজার। অর্থাৎ দুই পুরসভা মিলিয়ে প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার বাদ পড়া ভোটারের ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে, সেই রহস্য লুকিয়ে কমিশনের বিতর্কিত ওয়েবসাইটে। কারণ বিচারপতিদের ওই ওয়েবসাইটে কোনোরকম অ্যাকসেস দেওয়া হয়নি। ওয়াবসাইট মারফত শুনানির নোটিস পাঠানো থেকে শুরু করে ভার্চুয়াল হিয়ারিং তো দূরঅস্ত, আবেদন নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত নির্দেশ আপলোড (অর্থাৎ আবেদনকারীর নাম অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে বা বাদ যাচ্ছে সেই সংক্রান্ত নির্দেশনামা) করতে দেওয়া হচ্ছে না। তা করতে গেলে উলটে বিচারপতিদের আধার অথেন্টিকেশন করতে বলা হচ্ছে। সেই মর্মে ওয়েবসাইটে একটি অপশনও চালু করছে কমিশন। স্বাভাবিকভাবেই ট্রাইবুনালের দায়িত্বে থাকা বিচারপতিদের প্রশ্ন, তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিযুক্ত। তাহলে তাঁদের কেন আধার অথেন্টিকেশনের পর নির্দেশ আপলোড করতে হবে? 
জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালের জন্য একটি পৃথক পোর্টাল চালু করেছে কমিশন। গত ২১ সেপ্টেম্বর ওই পোর্টাল চালুর পর তা নিয়ে অবগত করতে বিচারপতিদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করে কমিশন। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের আইটি ডিরেক্টর সীমা খান্না। অভিযোগ সেই বৈঠকে বিচারপতিরা উপস্থিত থাকলেও ‘আধার অথেন্টিকেশনের’ বিষয়টি কোনোভাবেই তাঁদের জানানো হয়নি। এরপর থেকে চলতি সময় পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে অন্তত দু’বার একযোগে কমিশন ও কলকাতা হাইকোর্টে চিঠি দিয়েছেন ট্রাইবুনালের দায়িত্বে থাকা বিচারপতিরা। এমনকি বিষয়টি নিয়ে কমিশনে আলাদা করে চিঠি লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সিইও। কিন্তু তারপরও নিরুত্তর কমিশন।
তাই ভোটের আগেও কলকাতা ও হাওড়া দুই পুরসভার অন্তত ১ লক্ষ ৬০ হাজার বাদ পড়া ভোটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে জটিলতা অব্যাহত। তবে ভোট করানোর ক্ষেত্রে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে যে দিল্লির প্রস্তুত করা ভোটার তালিকাই গ্রহণ করতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। সংবিধানের ২৪৩জেডএ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার তালিকা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে যাবতীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশন আইন ১৯৯৪-এর ৫ নম্বর ধারাতেও বলা হয়েছে, তারা চাইলে নিজেদের প্রস্তুত করা ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোট করাতে পারে। কিন্তু সূত্রের খবর, তেমন কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ফলে আসন্ন পুরভোটেও সুতো ঝুলে দুই পুরসভার লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য!