২৫০ বছর আগে গঙ্গায় ভেসে আসা কাঠামো দিয়ে তৈরি হয়েছিল কুমোরটুলির ডোমকালী
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা: সেই আড়াইশো বছর আগে চন্দননগর থেকে গঙ্গায় ভেসে এসেছিল প্রতিমার কাঠামো। ভাসতে ভাসতে এসে ঠেকেছিল উত্তর কলকাতার বনমালি সরকার স্ট্রিট সংলগ্ন কুমোরটুলি ঘাটে। তখন ওই অঞ্চলে বসবাস ডোম সম্প্রদায়ের কিছু মানুষের। তাঁরা জল থেকে কাঠামোটি তুলে কালী মূর্তি তৈরি করেন। গঙ্গার ধারে গাছ‑গাছালি ঘেরা একটি ছোটো চালাঘরে শুরু করেন কালীর পুজো। তখন ওই অঞ্চল ঝোপঝা঩ড়ে ঢাকা। জংলি গাছগাছালিতে ভরা। যেহেতু ডোম সম্প্রদায়ের মানুষরা পুজো শুরু করেছিলেন, তাই লোকমুখে ঠাকুরের নাম হয়ে যায় ডোমকালী। দেবী মূর্তিটি সিদ্বেশ্বরী কালীর আদলে তৈরি। তাই অনেকে সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির নামেও চেনেন এই কালীক্ষেত্রটিকে।

Advertisement

একসময় গঙ্গার ধারে থাকা চালাঘর থেকে কালীকে পাকাপাকিভাবে স্থাপন করা হয় কুমোরটুলির ভিতরের একটি মন্দিরে। বর্তমানে সেখানেই হয় নিত্যপুজো। মন্দিরের সেবায়েত অভয় মুখোপাধ্যায় জানান, প্রাচীন কালী মূর্তি দর্শন করতে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন। এখানে পুজো দেন। কালীপুজোর দিন ঠাকুরকে রুপোর মুকুট পরানো হয়। ভোগে নিবেদন করা হয় খিচুড়ি, পাঁচরকম ভাজা, চচ্চড়ি, আলুর দম, ফুলকপির তরকারি, চাটনি, পায়েস, মিষ্টি ও ফল। ঠাকুরকে পরানো হয় ১০৮ কুঁড়ির জবার মালা ও ১০৮ বেলপাতার মালা। নিয়মনিষ্ঠা মেনে হয় পুজো। হোম হয়। পুজোর শেষে পটুয়াপাড়া সংলগ্ন মানুষদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
মন্দিরে সিদ্বেশ্বরী কালী ছাড়াও রাধা‑কৃষ্ণ ও অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তি রাখা। অভয়বাবু বিগ্রহ রং করেন। প্রতি অমাবস্যায় পুজো হয়। আর খুব জাঁকজমক সহকারে ডোমকালী পুজো হয় কালীপুজোর রাতে। অন্যসময় দেবীকে টকটকে লাল রঙের কাপড় পরানো হয়। শ্যামাপুজোর রাতে তাঁকে নানা সাজে সজ্জিত করার রীতি। মন্দিরে ছড়ানো হয় সুগন্ধি। প্রাচীনকালে ডোম সম্প্রদায়ের মানুষরা পুজো শুরু করেছিলেন। পরবর্তী সময় মন্দিরের খরচ বেড়ে যাওয়ায় পুজো হাত ফেরতা হয়ে থাকে। পটুয়াপাড়ার প্রবীণ মৃৎশিল্পীরা জানান, কলকাতার যে সমস্ত প্রাচীন কালী মন্দির আছে সেই তালিকায় রয়েছে ডোমকালী মন্দিরের নামও। এ মন্দির ইতিহাসের নানা ঘটনার সাক্ষী। স্থানীয় মানুষরা জানান, কুমোরটুলির ভিতর ডোমকালী ছাড়াও ঢাকেশ্বরী মন্দির আছে। তাই এখনও পটুয়াপাড়ায় ঠাকুর কিনতে এসে অনেকে মঙ্গলকামনায় দুই দেবীকে পুজো দিয়ে প্রতিমা গাড়িতে তোলেন।