নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমানের শ্যামসায়র জলাশয় সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় খুশি শহরের বাসিন্দারা। তবে সৌন্দর্যায়নের কাজ করতে গিয়ে পুকুরের পাশে থাকা বেশকিছু গাছ কেটে ফেলায় ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা বলেন, গাছগুলি বাঁচিয়েও সংস্কার বা সৌন্দর্যায়নের কাজ করা যেত। তা না করে ১৫টির বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গাছের গোড়া তুলে মাটি ঢাকা দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও বেশ কয়েকটি গাছ কাটা হতে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।
বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, বিষয়টি আমার কানেও এসেছিল। সেখানে পরিদর্শনে যাই। কয়েকটি গাছ পুকুরের দিকে হেলে পড়েছিল। সেগুলি কাটা হয়েছে। বড় গাছগুলি কাটা হয়নি। শহরে সবুজায়নে আমরা জোর দিয়েছি।
বর্ধমানের বাসিন্দারা বলেন, শহরে এর আগেও বহু গাছ কাটা হয়েছে। নতুন করে তেমনভাবে আর গাছ রোপণ করা হয়নি। এখন গোলাপবাগ ছাড়া আরও কোথাও তেমন গাছ দেখা যায় না। জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের সময়ও বহু গাছ কাটা হয়েছিল। সমসংখ্যক গাছ লাগানোর আশ্বাস দিয়েও তা করা হয়নি। তাই শ্যামসায়রে গাছ কাটা শুরু হতে ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছে শহরবাসী। বধর্মান শহরের বাসিন্দা শুভজিৎ দাস বলেন, সৌন্দর্যায়নের কাজের নামে গাছ কাটা নতুন কোনও বিষয় নয়। গাছ বাঁচিয়ে রেখেও সৌন্দর্যায়নের কাজ করা যায়। সেটা সকলের বোঝা উচিত। আর এক বাসিন্দা বলেন, এর আগেও পুলিসলাইন থেকে উল্লাস পর্যন্ত ও জাতীয় সড়কের দু’ধারে প্রচুর গাছ কাটা হয়েছে। শহরে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হতে বসেছে। একের পর এক পুকুর ভরাট করা হয়েছে। তারপরও এভাবে দেদার গাছ কাটা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি বহু পুরনো বড় অশত্থ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আরও কয়েকটি গাছ কাটার তোড়জোড় চলছে। ওখানে রোগীর পরিজনরা গাছের ছায়ায় বসতেন। এবার তীব্র রোদে তাঁদের টেকা দায় হয়ে যাবে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বাসিন্দাদের বহুদিনের দাবি মেনে শ্যামসায়র সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। পুরনো এই পুকুরের জল দূষিত হয়ে উঠেছিল। পুকুরের চারপাশে খাবারের দোকান তৈরি হয়। সেগুলির নোংরা জল পুকুরে ফেলা হতো। সামনেই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এছাড়া পুকুর থেকে কিছুটা দূরে নার্সিংহোম রয়েছে। বিভিন্ন এলাকার দূষিত জল পুকুরে পড়ত। জলে কচুরিপানা সহ আগাছা জন্মেছিল। পুকুরটি বাঁচাতে পুরসভা সংস্কারের কাজ শুরু করে। প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ করে এই কাজ করা হচ্ছে। চেয়ারম্যান বলেন, আগামী দিনে এই পুকুরের জল যাতে দূষিত না হয় তারজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাড়ের চারপাশে সৌন্দর্যায়নের কাজ করা হবে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিভিন্ন জেলার রোগীরা চিকিৎসার জন্য আসেন। তাঁদের আত্মীয়রা পুকুরপাড়ে বসে যাতে সময় কাটাতে পারেন সেই উদ্যোগও নেওয়া হবে। পুকুরের যে অংশ ভরাট হয়েছে সেখান থেকে মাটি তুলে নেওয়া হবে। স্থানীয়রা বলেন, পুরসভার এই কাজ প্রশংসনীয়। কিন্তু ভালো কাজের মাঝেও গাছ কেটে অযথা বিতর্ক তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। সেটা না করা হলেও তেমন ক্ষতি হতো না।