সংবাদদাতা, খড়্গপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৩১ হাসপাতাল থেকে মিলবে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের পরিষেবা। তালিকায় ৪৫টি সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও আছে জেলার ৮৬ বেসরকারি হাসপাতাল। প্রথম দফায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই জেলার প্রায় ১ লক্ষ উপভোক্তার হাতে পৌঁছে যাবে আয়ুষ্মান ভারত যোজনার কার্ড। সমীক্ষার কাজ সম্পূর্ণ হলে জেলার প্রায় ৩২ লক্ষ উপভোক্তা এই কার্ড পাবেন বলে সোমবার জানা গিয়েছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে। ওই সূত্রে এও জানা গিয়েছে, আপাতত ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড থাকলেই আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে, উপভোক্তাকে আয়ুষ্মান ভারত পাওয়ার ‘যোগ্য’ হতে হবে।
উল্লেখ্য, যেসব উপভোক্তার কাছে এএওয়াই (অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা), পিএইচএইচ (প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড) এবং এসপিএইচএইচ (স্টেট প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড কার্ড) রেশন কার্ড রয়েছে, তাঁরাই ‘আয়ুষ্মান কার্ড’ পাওয়ার উপযুক্ত। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এই সংখ্যাটা প্রায় ৩২ লক্ষ। সোমবার জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী জানান, সমীক্ষার কাজ প্রায় ৮৫ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়েছে। এখনও অবধি মাত্র ৪ হাজার উপভোক্তার নাম বাদ গিয়েছে। তিনি এও জানান, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে জেলার ৯৫ বেসরকারি হাসপাতাল অন্তর্ভুক্ত ছিল। আয়ুষ্মান ভারতে সোমবার পর্যন্ত ৮৬ বেসরকারি হাসপাতাল নথিভুক্ত হয়েছে। মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক জানান, কয়েকটি ছোটো হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের নাম বাদ গিয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের মাধ্যমে মোট ১৯৫০ রকমের চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সেই তালিকায় হাঁটু প্রতিস্থাপন ও হিপ রিপ্লেসমেন্টের মতো বড় সার্জারিও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও, অমৃত ফার্মেসি বা নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে ওষুধের দামে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায় এই কার্ড থাকলে। স্বাস্থ্যসাথীর মতোই আয়ুষ্মান ভারতেও বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। খড়্গপুর, ডেবরা, পিংলা প্রভৃতি এলাকার বাসিন্দা রাজেশ কুমার, শিপ্রা দোলই, অমৃত ত্রিপাঠী, রবিউল করিম প্রমুখ বলেন, শুনেছি আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড থাকলে দেশের নামকরা বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে পরিষেবা পাওয়া যায়। আপাতত তাই কার্ড হাতে পাওয়ার অপেক্ষাতে আছি।