Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্বচ্ছ না অস্বচ্ছ? লেখার কলম নিয়েও বিস্তর বিতর্ক অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্রে

স্বচ্ছ না অস্বচ্ছ? লেখার কলম নিয়েও বিস্তর বিতর্ক অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্রে
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারাসত, সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া হবে ‘স্বচ্ছ’। স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য নকল করা আটকাতে কমিশনের অন্যতম অস্ত্র ‘স্বচ্ছ (ট্রান্সপারেন্ট) কলম’। রবিবার এসএসসি পরীক্ষার দিন সেই কলম নিয়েই গোল বাধল একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে। লেখার কোন পেন স্বচ্ছ আর কোন কলম অস্বচ্ছ, এই প্রশ্নের উত্তর পেতে পরীক্ষার্থীরা দৌড়লেন কর্তৃপক্ষের কাছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, কোন কলম পাশ করল আর কে ঢাহা ফেল। বাতিল পেনের মালিক পরীক্ষার্থী ছুটলেন স্বচ্ছ কলম কিনতে। 

Advertisement

কমিশন যদিও বলেছে, স্বচ্ছ কলম পরীক্ষাকেন্দ্রে থাকবে। চাইলে মিলবে। কিন্তু পাটুলির কে কে দাস কলেজের এক কর্মী প্রথমেই বললেন, ‘সকলকে কি দেওয়া সম্ভব?’ যদিও চাপের মুখে পরে সেই ব্যক্তিই বলেছেন, ‘কলম না থাকলে ভিতরে পেয়ে যাবেন।’ এই ধরনের কিছু টুকরো বিতর্ক এদিন তৈরি হল কলম ঘিরে। শুধু পাটুলি নয়, কলকাতা সহ জেলার প্রায় সর্বত্র কলমের স্বচ্ছতা যাচাই করতে গিয়ে বচসা বাধল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের। পাটুলিতে এক পরীক্ষার্থীর পরিজন শেষপর্যন্ত রেগে বললেন, ‘রিফিল দিয়ে লিখবে আমার মেয়ে।’ কেউ আবার ছুটলেন নতুন কিনতে। কারণ অনেকে জানতেনই না যে, পরীক্ষাকেন্দ্রেই কলম রাখা থাকবে। অভিযোগ, পরীক্ষাকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষও স্পষ্টভাবে সেকথা জানাতে দ্বিধা বোধ করছিলেন। ফলে শেষ মুহূর্তে অসহায় পরীক্ষার্থীদের ছুটতে হয়েছে আশপাশে থাকা কলমের দোকান খুঁজতে। কিন্তু রবিবার বলে বহু দোকান ছিল বন্ধ। ফলে সমস্যা দেখা দিয়েছে সর্বত্র। দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর বিদ্যাপীঠেও দেখা গিয়েছে, স্বচ্ছ-অস্বচ্ছ কলম নিয়ে বচসা বেধেছে। উত্তর কলকাতার একাধিক স্কুল-কলেজে এই কলম নিয়ে সমস্যায় পড়তে দেখা গিয়েছে পরীক্ষার্থীদের। একই চিত্র হাওড়ার উলুবেড়িয়াতেও। এদিন ১০টা বাজতেই উলুবেড়িয়া কলেজে পরীক্ষার্থী আর অভিভাবকদের ভিড় দেখা চোখে পড়েছে। কিন্তু কেন্দ্রে প্রবেশ করার সময় দেখা গিয়েছে, অনেকেই স্বচ্ছ কলম নিয়ে আসেননি। এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘স্বচ্ছ কলমের বিষয়টি সত্যিই জানতাম না।’ ফলে অনেকেই দোকানে দোকানে ছুটলেন। অন্যদিকে স্বচ্ছ কলম বিক্রি করে লক্ষ্মীলাভ হওয়ায় খুশি পরীক্ষাকেন্দ্রের কাছে থাকা দোকানদাররা। তাঁদের বক্তব্য, ‘অনেক পরীক্ষার্থী আগেরদিন রাত থেকেই স্বচ্ছ কলমের খোঁজ করেছেন। অনেকে ছুটে এসেছেন পরীক্ষার আগে সকালে।’
বারাসতও স্বচ্ছ কলমের প্রশ্নে বিতর্কে জড়িয়েছে। সেখানে পরীক্ষাকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দেওয়া কলম নিয়েই ক্ষোভ দেখা গেল পরীক্ষার্থীদের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, ‘ব্যক্তিগত কলমের পরিবর্তে পরীক্ষাকেন্দ্র ইউজ-অ্যান্ড-থ্রো কলম দিচ্ছে।’ বারাসতের চারটি প্রধান কেন্দ্র ছিল বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ, ইভনিং কলেজ, বনমালীপুর প্রিয়নাথ ইনস্টিটিউশন এবং পূর্ব বারাসত আদর্শ বিদ্যাপীঠ। পরীক্ষার্থী সুস্মিতা পোদ্দার বলেন, ‘কলমগুলি অত্যন্ত নিম্নমানের। লিখতে খুব সমস্যা হয়েছে।’ সবমিলিয়ে পরীক্ষার দিন বিতর্কে উঠে এসেছে আপাত নিরীহ লেখার পেনও। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ