Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্নীতি প্রমাণ করে বদলি তদন্তকারী আধিকারিক! বর্ধমান জেলা বনদপ্তরে তোলপাড়

অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বনদপ্তরে এক বিট অফিসারের বিরুদ্ধে। একজন আধিকারিককে দিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে দপ্তর।

দুর্নীতি প্রমাণ করে বদলি তদন্তকারী আধিকারিক! বর্ধমান জেলা বনদপ্তরে তোলপাড়
  • ২৭ মে, ২০২৬ ১৫:০৫
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বনদপ্তরে এক বিট অফিসারের বিরুদ্ধে। একজন আধিকারিককে দিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে দপ্তর। তদন্তে উঠে আসে অভিযোগ প্রমাণে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কিন্তু, তাৎপর্যপূর্ণভাবে অভিযুক্ত বিট অফিসারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই রাতারাতি বদলি করে দেওয়া হল তদন্তকারী আধিকারিককেই! সূত্রের খবর, ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসারের কাছে তদন্তের রিপোর্ট জমা করার পরই বর্ধমান থেকে তাঁকে বদলি করে দেওয়া হয় বীরভূমে। স্বাভাবিকভাবেই বদলির অর্ডার ঘিরে তোলপাড় এখন জেলা বনদপ্তর। শীর্ষকর্তাদের এমন সিদ্ধান্তে তাজ্জব স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অনেক অফিসার। 

Advertisement

বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার ওই বিট অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়ে অরণ্য ভবনে। অভিযোগপত্রে লেখা হয়, বিট অফিসার কাঠ ব্যবসায়ীদের উপর চাপ সৃষ্টি করে টাকা আদায় করছেন। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মাসে দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা দিয়ে বেআইনি কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বর্ধমান বিভাগের রেঞ্জার অনির্বাণ মিত্রকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই মতো তদন্ত নেমে অভিযোগের সত্যতা পান তিনি। ওই বিট অফিসার দপ্তরের এক কর্মীর মাধ্যমে একাধিক লোকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। অনলাইনেও টাকা নেওয়া হয়েছে। তার স্ক্রিনশটও তদন্ত রিপোর্টের সঙ্গে জমা করেন অনির্বাণবাবু। একই সঙ্গে তিনি এটাও জানতে পারেন, ওই কর্মী বিভিন্ন জনের কাছে থেকে টাকা তোলার পর ওই ফরেস্ট গার্ডের অ্যাকাউন্টে জমা করেছেন। সবমিলিয়ে জবরদোস্ত তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করে জমা দিয়েছিলেন অনির্বাণবাবু। আর তার পরই তাঁকে কেন তড়িঘড়ি বদলি করে দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারী রেঞ্জার অবশ্য এনিয়ে মুখ খুলতে চাননি। বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি জেলা বনদপ্তরের কোনো শীর্ষকর্তাও।
তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, যাঁর বা যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল। সেটা না করে তদন্তকারী অফিসারকে বদলি করে দিলে বিতর্ক হবেই। ওই আধিকারিককে রিলিজ অর্ডার দেওয়া হয়েছে। কোনো অফিসারকে বদলির পর নতুন জায়গায় যেতে সাত থেকে আট দিন সময় দেওয়া হয়। সেটা না করে কেন তাঁকে তড়িঘড়ি রিলিজ দেওয়া হল, সেটাও বেশ ভাবাচ্ছে।  
বিজেপির রাজ্য যুব মোর্চার কার্যকারিণী সদস্য অনীশ দাস বিষয়টি জানার পর বলেন, ‘আমাদের সরকার দুর্নীতি প্রশ্রয় দেয় না। যাঁরা অনিয়ম করেছেন তাঁদের যাতে আইনের আওতায় আনা হয়, তার ব্যবস্থা করা হবে। কেন ওই তদন্তকারী আধিকারিককে বদলি করে দেওয়া হল, সেটাও খোঁজ নিয়ে দেখছি।’ তৃণমূল নেতা নুরুল হাসান বলেন, ‘এতো অদ্ভুদ নিয়ম! যিনি অনিয়ম করছেন তাঁকে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। আর যিনি অনিয়মের তদন্ত করলেন তাঁকে তড়িঘড়ি রিলিজ করে দেওয়া হচ্ছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ