Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মাসে এক কোটির লেনদেন অ্যাকাউন্টে, উৎস ঘিরে প্রশ্ন

মাসে এক কোটির লেনদেন অ্যাকাউন্টে, উৎস ঘিরে প্রশ্ন
  • ১৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোদপুরের তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত শ্বেতা খানের ‘লাইফস্টাইল’ দেখে তাজ্জব তদন্তকারীরা। দামি ব্র্যান্ডের জামাকাপড়, বিদেশি ঘ঩ড়ি, পারফিউম ছিল তাঁর পছন্দের। নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে কলকাতার এক নামী পার্লারের রেগুলার কাস্টমার ছিল এই ‘মক্ষীরানি’। শ্বেতা নিজেই তদন্তকারীদের জানিয়েছে, নিজের জন্যই তার প্রতিদিন খরচ হতো হাজার চারেক টাকা। বিলাসবহুল গাড়ি চড়া ছিল তাঁর শখ। কোথাও গেলে সবচেয়ে দামি গাড়ি ভাড়া নিত। শখ-আহ্লাদ মেটানোর এই টাকার পুরোটাই আসত ‘কালা কারবার’ থেকে। পানশালায় কাজ করার টোপ দিয়ে দুঃস্থ পরিবারের যুবতীদের শুধু দেহ ব্যবসাতে নামিয়ে রোজগার করাই নয়, পাশাপাশি একাধিক অবৈধ কারবার থেকেও মক্ষীরানির পকেট ভরত। প্রতি মাসে তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আশি লাখ থেকে এক কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। যার সিংহভাগ অনলাইনে। 

Advertisement

বুধবার রাতভর জেরায় শ্বেতা তদন্তকারীদের জানিয়েছে, বন্দর এলাকার এক ডনের নিখুঁত পরিকল্পনায় সে গা-ঢাকা দিয়েছিল। বন্দরের ওই ডন এখন বিদেশে। সেখানে বসেই গার্লফ্রেন্ড শ্বেতাকে সাহায্য করতে আসরে নামে। ১৩ বছরের কন্যাকে সে নরেন্দ্রপুরে এক পরিচিতের বাড়িতে রেখেছিল। গ্রেপ্তারি এড়াতে ছেলে আরিয়ানও অন্যত্র থাকছিল। তবে শ্বেতা প্রতিদিনই দেখা করেছে মেয়ে ও ছেলের সঙ্গে। ডনই তাকে পরামর্শ দিয়েছিল, কোনওভাবে নর্মাল ফোনে কল করা যাবে না। আর হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ বা কল করতে হবে সিম ছাড়া। পুলিসের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে এক ‘অনুরাগী’র হ্যান্ডসেট নিয়ে ঘুরছিল। ওয়াই ফাই জোন খুঁজে, শ্বেতা সেখানে  গিয়ে মেসেজ বা কল করে কথা বলত আত্মীয়স্বজন আর অনুরাগীদের। সেই সঙ্গে ভিপিএন পদ্ধতিও ব্যবহার করছিল। যাতে আসল সার্ভারের খোঁজ না মেলে। নিজেকে আড়াল করতে পানশালার সূত্রে পরিচয় হওয়া পরিচিতদের গেস্ট হাউস বা হোটেলে কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে আবার বেরিয়ে যেত ‘মক্ষীরানি’। সেখানকার ফোনও ব্যবহার করত। একইসঙ্গে অনুরাগীদের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ভিন রাজ্যে থাকা তাঁর গ্রুপের মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগও রাখছিল শ্বেতা। তদন্তকারীরা যে ওই সাইটেও ঢুকে পড়েছেন, সেটা টেরই পায়নি ‘মক্ষীরানি’।
তদন্তকারীরা জেনেছেন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে কাজের টোপ গিলে কোনও তরুণী ফাঁদে পড়লে পানশালায় তাঁদের দিয়ে কাজের পাশাপাশি দেহব্যহসায় নামাতেন। তরুণীদের সঙ্গে খরিদ্দারদের ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের ছবি ভিডিও করে ব্ল্যাকমেল করে আটকে রেখে গুন্ডাদের আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন। এমনকী তাঁর টিমের তরুণীদের কেউ কাজ করতে না চাইলে মারধর করতেন।।    

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ