সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: এক যুবকের অ্যাকাউন্টে সাইবার প্রতারণার কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ পেয়ে সোমবার সাতসকালে সাগরদিঘিতে হানা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সাগরদিঘি থানার কাবিলপুরের সোহেল শেখের বাড়িতে পৌঁছয় ইডির তিন সদস্যের দল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। সকালে থেকেই সোহেলের বাড়িতে তল্লাশি শুরু হয়। চলে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে। যদিও বাড়িতে সোহেল ছিল না বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা।
সাগরদিঘি থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁদের বিশদে কিছু জানা নেই। শুধু কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা তল্লাশি চালাচ্ছে এটুকু জানেন।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর পঞ্জাবের জলন্ধরে দায়ের হওয়া একটি অনলাইন প্রতারণা মামলার তদন্তে নেমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা একাধিক সন্দেহভাজন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট গোয়েন্দাদের আতশকাঁচের তলায় আসে। ব্যাঙ্ক লেনদেনের জট ছাড়াতে গিয়ে তদন্তকারীরা দেখতে পান, অন্তত ৮ কোটি টাকার বেআইনি আদান-প্রদান হয়েছে এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। সেই সূত্র ধরেই সোহেল শেখের নাম উঠে আসে। কোটি টাকার এই আন্তঃরাজ্য বেআইনি আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সোহেলের ঠিক কী যোগসূত্র রয়েছে, তা স্পষ্ট করতেই ইডি-র এই পদক্ষেপ। এদিন কেবল সাগরদিঘিই নয়, কলকাতাএবং মালদহের চাঁচলেও একযোগে অভিযান চালিয়েছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র ছেলে হিসেবেই পরিচিত সোহেল। বাড়িতে মা, বাবা, স্ত্রী ও সন্তান থাকলেও সোহেল বেশিরভাগ সময়ই ভিনরাজ্যে কাটাত। পাড়া পড়শিদের কাছে নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিলেও, সে প্রকৃতপক্ষে কী কাজ করত তা স্পষ্ট জানা ছিল না কারওরই। গত প্রায় চার মাস ধরে সোহেল এলাকায় নেই বলেই জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তদন্ত চলাকালীন দুপুরে তদন্তকারী এক অফিসার জানিয়েছেন, একটি অনলাইন প্রতারণার মামলার তদন্তে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউণ্টে কোটি কোটি লেনদেন হয়েছে। সেটাই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সোমবার সকালে ইডি আধিকারিকরা যখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করেন, তখন রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় কাবিলপুরে। তদন্তকারীরা ঘরের ভেতরে ঢুকে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য প্রামাণ্য সামগ্রী খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। তবে দীর্ঘ তল্লাশিতে ঠিক কী কী ডিজিটাল নথি বা চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলল, সেই বিষয়ে ইডি-র পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনও থমথমে ওই এলাকা।