নয়াদিল্লি: পহেলগাঁও হামলার পরই জঙ্গি দমনে তৎপরতা আরও বাড়িয়েছে ভারত সরকার। অপারেশন সিন্দুরের মাধ্যমে পাকিস্তানের ঘরে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ভারতীয় সেনা। এবার দেশের অন্দরে, আমজনতার ভিড়ে লুকিয়ে থাকা গুপ্তচরদের ধরতে শুরু হয়েছে অপারেশন মিরজাফর। সম্প্রতি পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে লাস্যময়ী ট্রাভেল ভ্লগার জ্যোতিরানি মালহোত্রাকে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে ঘরশত্রু বিভীষণদের তালিকা দীর্ঘ এবং বেশ পুরনো। তার মধ্যে কেউ কূটনীতিবিদ, কেউ বিজ্ঞানী, কেউ বা দূতাবাসের কর্মী। কখনও জনপ্রিয়তা বা অর্থের লোভ। কখনও বা হানিট্র্যাপের শিকার হয়ে গোপনে আইএসআই-কে তথ্য পাচার করেছেন এই অভিযুক্তরা।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি। মস্কোয় ভারতীয় দূতাবাসের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সত্যেন্দ্র সিওয়াল নামে ওই অভিযুক্তকে মিরাট থেকে গ্রেপ্তার করেছিল উত্তরপ্রদেশ এটিএস। পুলিস সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় বায়ুসেনা ও নৌসেনার বহু গোপন তথ্য পাচার করেছিলেন সত্যেন্দ্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় পূজা মেহরা নামে একজন তাঁকে ফাঁদে ফেলে। ২০২৩ সালের মে মাসে প্রদীপ কুরুলকর নামে এক ডিআরডিও-র বিজ্ঞানীকে গ্রেপ্তার করে মহারাষ্ট্র এটিএস। তদন্তে নেমে জানা যায়, আইএসআই-এর এক মহিলা সদস্যকে ইন্ডিয়ান মিসাইল সিস্টেম নিয়ে একাধিক গোপন তথ্য সরবরাহ করেছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ব্রহ্মস এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার নিশান্ত আগরওয়ালকে নাগপুরের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র এটিএস। জানা যায়, তিনিও হানিট্র্যাপের শিকার হন। আইএসআইয়ের হাতে মিসাইল সম্পর্কিত বহু গোপন তথ্য তুলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে মাধুরী গুপ্তা নামে আইএফএসের
এক গ্রুপ বি অফিসারকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিসের স্পেশাল সেল। তদন্তে নেমে জানা যায়, মুবসর রাজা রানা ও জামশেদ নামে দুই আইএসআই এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল
তাঁর। দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বহু গোপন তথ্য তুলে দিয়েছিলেন ওই দুই এজেন্টের হাতে। ১৯৯০ সালের শুরুর দিক। ইসলামাবাদে ভারতীয় দূতাবাসের এক নৌসেনার শীর্ষ আধিকারিকের বিরুদ্ধে তথ্য পাচারের অভিযোগ ওঠে। করাচির সেনা হাসপাতালের এক মহিলা কর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি।