Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সময়ে চলে না ট্রেন, ঈশানচণ্ডী হল্ট স্টেশনে যাত্রীদের বিক্ষোভ

বিষয়টি নিয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজি বলেন, আসানসোল-বর্ধমান মেমুকে কেন্দ্র করে সমস্যা হয়।

সময়ে চলে না ট্রেন, ঈশানচণ্ডী হল্ট স্টেশনে যাত্রীদের বিক্ষোভ
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০১
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: সময়ে লোকাল ট্রেন চালানো ও বর্ধমান-আসানসোল শাখার লোকাল ট্রেনগুলির স্টপেজের দাবিতে রবিবার আসানসোল ডিভিশনের ঈশানচণ্ডী হল্ট স্টেশনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নিয়মিত লোকাল ট্রেন দেরি করায় গন্তব্যে যেতে সমস্যা হচ্ছে। এদিন অবরোধের জেরে লোকাল সহ বেশ কিছু দূরপাল্লার ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকে যায়। বিষয়টি নিয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজি বলেন, আসানসোল-বর্ধমান মেমুকে কেন্দ্র করে সমস্যা হয়। পরে অবরোধ উঠে যায়। এদিন সকালে ৬৩৫০৮ ও ৬৩৫১২ বর্ধমানগামী লোকাল ট্রেন নির্ধারিত সময়ের থেকে দারিতে ছিল। ঈশানচণ্ডী হল্ট স্টেশনে ৬৩৫১২ ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা দেরিতে আসে। যাত্রীদের অভিযোগ, গলসি, পারাজ, মানকর, পানাগড় স্টেশন থেকে বহু মানুষ প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে বর্ধমান ও দুর্গাপুরে যান। কিন্তু, অধিকাংশ লোকাল সময়ে আসে না। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। কেন নিয়মিত এরকম হবে?

Advertisement

ঈশানচণ্ডী হল্ট স্টেশনের এক যাত্রী বলেন, ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই ঈশানচণ্ডীতলায় হল্ট স্টেশনটির উদ্বোধন হয়েছিল। উদ্বোধনের আগে থেকেই ওই স্টপেজে সকাল-বিকেল আপ ও ডাউনে মাত্র দু’জোড়া করে ট্রেন দাঁড়াত। স্টেশনের উদ্বোধনের পরেও ছবিটা বদলায়নি। আমরা ভেবেছিলাম আরও কয়েকটি লোকাল ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া হবে। কিন্তু, তা হল না। অথচ এই স্টেশনের উপর খানো, পিলগ্রাম, জয়কৃষ্ণপুর, তারানগর, উড়া, বড়সোনা, ছোটমুড়িয়া, ডালিমগড়িয়া, ভূড়ি সহ ২৫টি গ্রামের বাসিন্দারা নির্ভর করেন। সব লোকাল ট্রেনের স্টপেজ দিলে যাত্রীর সংখ্যাও বাড়বে এবং তাতে রেলের আয় হবে। চন্দন দত্ত, সঞ্জয় মণ্ডল বলেন, ট্রেনে দুর্গাপুর বা বর্ধমান যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমাদের স্টেশনে ট্রেন থামে না বলে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে খানা জংশন স্টেশনে গিয়ে ট্রেন ধরতে হয়। সাধারণ কাজেও বর্ধমান বা দুর্গাপুর যেতে হলে বেশি টাকা খরচ করে বাসের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার রেল ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে চিঠি লিখেও কোনও লাভ হয়নি। যাত্রীদের তরফে অভিযোগ তোলা হয়, খানা জংশন স্টেশনে বোলপুর লাইন থেকে গাড়ি আসার জন্য বর্ধমানগামী আসানসোল লোকাল দেরি করা হয়। এই ঘটনা প্রতিদিনের। ট্রেনের যাত্রী মধুময় হালদার বলেন, আমাদের কি সময়ের কোনও দাম নেই? এভাবে সময়ের অপচয় হচ্ছে। এর দাম কে দেবে? লোকাল ট্রেনের উপর ভরসা রেখে গন্তব্যে যাওয়া মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। এদিন প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলে বিক্ষোভ। তার জেরে এদিন বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন ও লোকাল বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে। মানকর স্টেশনে দাঁড়িয়ে যায় ১৩০৪৪ রক্সোল-হাওড়া এক্সপ্রেস। ১৩০৪৬ ময়ূরাক্ষী এক্সপ্রেস সহ ৬৩৫১৪ আসানসোল বর্ধমান লোকাল নির্ধারিত সময়ের থেকে অনেক দেরিতে বর্ধমান স্টেশনে পৌঁছায়। মানকর স্টেশনের যাত্রী অভিষেক ঘোষ বলেন, লোকালে বর্ধমান যাব বলে টিকিট কেটেছিলাম। কিন্তু, লোকাল পানাগড় স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য টোটো করে বুদবুদ গিয়ে বাসে বর্ধমান গেলাম। বাড়তি টাকা খরচ হল। সময়ে ট্রেন চললে এই সমস্যা হত না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ