Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অগ্নিকাণ্ডের পরই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রশাসনের, চলবে নজরদারি, চাওয়া হল ম্যাপ

অগ্নিকাণ্ডের পরই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রশাসনের, চলবে নজরদারি, চাওয়া হল ম্যাপ
  • ৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়া অগ্নিকাণ্ডের পর দু'টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল জেলা প্রশাসন। শিল্পাঞ্চলে কোথায় কোন শিল্পসংস্থার পাইপলাইন রয়েছে তার উপর প্রশাসনিক নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পাইপলাইনের পাশে বসবাসকারীদের সরানো হবে বলেও জানা গিয়েছে। আজ, রবিবার হলদিয়ায় আইওসি রিফাইনারির একটি অনুষ্ঠানে এসে একথা জানান পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। তিনি হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(এইচডিএ) চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের প্রেক্ষিতে আগামী ৭ জুলাই হলদিয়ায় 'ডিস্ট্রিক্ট ক্রাইসিস গ্রুপ'-এর জরুরি মিটিংও ডাকা হয়েছে। ওই মিটিংয়ে যোগ দেওয়ার জন্য হলদিয়ার ৩৯টি শিল্প সংস্থাকে ইতিমধ্যেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সমস্ত শিল্প সংস্থাকে তাদের ডিটেল পাইপলাইনের ম্যাপ আনতে নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক। 

Advertisement

প্রশাসন সূত্র জানা গিয়েছে, বিপর্যয় মোকাবিলা নিয়ে হলদিয়ায় দীর্ঘদিন ক্রাইসিস গ্রুপের কোনও মিটিংই না কী ডাকা হয়নি। হলদিয়ার মতো পেট্রোরাসায়নিক শিল্পাঞ্চলে প্রশাসনিক স্তরে এই ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলা কমিটির মিটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। কিন্তু গত ৬-৭ বছরে বিভিন্ন শিল্প সংস্থায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ড ও বড়সড় দুর্ঘটনার পরও কেন ওই ক্রাইসিস গ্রুপের মিটিং নিয়মিত হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এদিনই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে গিয়ে পাইপলাইন সিল করা হয়েছে জেলাশাসকের নির্দেশে। অভিযোগ, ওই এলাকায় আইপিপিএলের এলপিজি পাইপলাইন থেকে গ্যাস লিকেজ হচ্ছিল টানা পাঁচদিন ধরে। গত ৩০ জুন ভোর রাতে অতিদাহ্য পেট্রলিয়াম পণ্যের  পাইপলাইনে অগ্নিকাণ্ডের পর রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে হলদিয়া ও জেলা প্রশাসন। গত শুক্রবারও রাতে হলদিয়া এসে মহকুমাশাসকের দপ্তরে জরুরি মিটিংয়ে বসেছিলেন জেলাশাসক। হলদিয়ার অগ্নিকাণ্ড নিয়ে তিনি রীতিমতো উদ্বিগ্ন। সেজন্যই জরুরিভিত্তিতে ক্রাইসিস গ্রুপের মিটিং ডেকেছেন তিনি।
এদিন হলদিয়ায় আইওসির অনুষ্ঠান শেষে জেলাশাসক বলেন, হলদিয়ায় কোনও ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান নেই, এনিয়ে দীর্ঘদিন মিটিংও হয়নি। হলদিয়ায় সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড নিয়ে প্রশাসন কার্যতই উদ্বিগ্ন। সেজন্য শিল্প সংস্থাগুলিকে নিয়ে মিটিংয়ে বসছি। শিল্প সংস্থাগুলিকে তাদের পাইপলাইনের ড্রয়িং আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারখানার মধ্যের পাইপলাইন সংস্থা দেখবে। কিন্তু জনপদের মধ্য দিয়ে যে লাইন গিয়েছে তা কোথায় কীভাবে রয়েছে সেই ড্রয়িং প্রশাসনকে দিতে হবে। ডাইরেক্টর অব ফ্যাক্টরিজের কাছে ওই ড্রয়িং থাকবে। কারণ উনি ক্রাইসিস কমিটির আহ্বায়ক। এছাড়া এইচডিএ, ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টর, মহকুমা প্রশাসন যৌথভাবে সেই লাইনের নজরদারি করবে। মানুষকে সচেতন করতে এটি জরুরি। এতদিন প্রশাসনের কাছে এই ড্রয়িং ছিলই না। জেলাশাসক বলেন, পাইপলাইন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যারা দখল করে বসবাস করছেন, তাঁদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হচ্ছে। সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা সম্পর্কে সবাই জেনেছেন, এর পাশে থাকলে কী পরিণতি হতে পারে। এজন্য তাঁদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। এইচডিএ নিয়ম ভেঙে ওরা বসবাস করছেন। কিছুদিনের মধ্যে এইচডিএ নোটিস দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাইপলাইনের পাশে বসবাসকারীদের সরানো হবে বলে জানান জেলাশাসক। এদিন তিনি আইওসি রিফাইনারির সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকল্পে ৪টি পানীয় জলের ট্যাঙ্কের উদ্বোধন করেন। ওই ট্যাঙ্কগুলি শহরে জল সরবরাহের জন্য পুরসভাকে দিয়েছে আইওসি। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহকুমা শাসক তথা পুর প্রশাসক সুরভি সিংলা ও আইওসির এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর সুশান্তকুমার দাস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ