সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: রাজ্যের পালা বদলের পর এইবার ট্রাফিক আইন ভাঙার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে ময়নাগুড়ি থানার ট্রাফিক বিভাগ। গত এক মাসে বাইক ও ছোট চার চাকার গাড়ির বিরুদ্ধে মোট ২১১৩ টি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলা দায়ের করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। এই সমস্ত অভিযান থেকে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা।
জানা গিয়েছে, ট্রাফিক বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সমস্ত আইন লঙ্ঘনের মামলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জরিমানা হয়েছে হেলমেট ছাড়া বাইক চালানোর ক্ষেত্রে। সেই কারণে মোট ১১৩৪ জনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাইকের পিছনে বসা যাত্রীর হেলমেট না থাকায় জরিমানার মুখে পড়েছেন ৮০৫ জন। বাইকে তিনজন চড়ার অপরাধে ৬০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সিটবেল্ট না পরে গাড়ি চালানোর জন্য মোট ৫৪ জন, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য ৫৩ জন, ভুল পথে গাড়ি চালানোর জন্য ২৬ জন, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করার জন্য ১৭ জন, নো-পার্কিং জোনে গাড়ি রাখার জন্য ৯ জন এবং ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার ক্ষেত্রে মোট ৬ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি পলিউশন সার্টিফিকেট না থাকা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে একজন করে মোট দু'জনের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ময়নাগুড়ি থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, শুধু জরিমানা করাই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত প্রচারও চালানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, দুর্ঘটনা কমাতে এবং নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও ট্রাফিক বিভাগ মারফত জানা গিয়েছে, হেলমেট না পরা বা বাইকে তিনজন চড়লে ১,০০০ টাকা, নো-পার্কিং ও ট্রাফিক সিগন্যাল ভাঙলে ৫০০ টাকা, ভুল পথে গাড়ি চালালে ৫,০০০ টাকা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালালে ১০,০০০ টাকা, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহার করলে ৫,০০০ টাকা, পলিউশন সার্টিফিকেট না থাকলে ২,০০০ টাকা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। ট্রাফিক বিভাগের দাবি, কঠোর নজরদারি ও সচেতনতার এই অভিযানের ফলে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের ট্রাফিক আইন ভাঙার প্রবণতা আরও কমবে বলেই আশা করা যাচ্ছে।