সংবাদদাতা, হলদিয়া: আন্তর্জাতিক মহাকাশ শিক্ষা বিষয়ক কর্মশালা ‘মিশন শক্তিস্যাট’-এ যোগ দিতে যাচ্ছে মহিষাদলের লক্ষ্যা হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মধুমিতা মাইতি। বিশ্বের ১০৮টি দেশের স্কুলছাত্রী ওই কর্মশালায় অংশ নেবেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত হয়েছে মধুমিতা। ওই আন্তর্জাতিক কর্মশালায় মধুমিতার মতো ভারতের ২১জন ছাত্রী অংশ নিচ্ছে। আগামী ২৩ আগস্ট থেকে দিল্লিতে শুরু হচ্ছে মিশন শক্তিস্যাটের হাতেকলমে স্যাটেলাইট তৈরির কর্মশালা। আটদিনের ওই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা স্যাটেলাইট অ্যাসেম্বলি, ইন্টিগ্রেশন এবং টেস্টিংয়ের জন্য হাতেকলমে প্রশিক্ষণ নেবেন। মহাকাশ বিজ্ঞান এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তির উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। মধুমিতাদের হাতে তৈরি ওই স্যাটেলাইট চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ১১অক্টোবর শ্রীহরিকোটা থেকে ওই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। জানা গিয়েছে, মিশন শক্তিস্যাটের কর্মশালায় দু’টি স্যাটেলাইট তৈরি করা হবে। মিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি স্যাটেলাইট চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করবে। অন্যটি চাঁদের কক্ষপথে আবর্তন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। লক্ষ্যা হাইস্কুলের শিক্ষক ও মধুমিতার গাইড শুভজিৎ দাস বলেন, বিশ্বের ১২ হাজার ছাত্রী ওই কর্মশালায় অংশ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় যোগ দিয়েছিল। মধুমিতা সেই প্রক্রিয়ায় অনলাইন লার্নিং মডিউলগুলি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এরপরই সে দ্বিতীয় ধাপে কর্মশালায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এটি খুবই চ্যালেঞ্জের বিষয় ছিল। কিন্তু মধুমিতার মহাকাশ গবেষণায় আগ্রহের কারণে কঠিন ধাপ উত্তীর্ণ হয়েছে। এধরনের আন্তর্জাতিক কর্মশালায় গ্রামের স্কুলের এক ছাত্রী অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হওয়ায় আমরা খুব খুশি। ওই ছাত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। ওই কর্মশালার জন্য মিশন শক্তিস্যাট ২১টি মডিউল এবং ৩৬৫টি লেসন বা পাঠের সমন্বয়ে একটি পাঠক্রম তৈরি করেছে। ওই কর্মশালায় কী শিখবেন শিক্ষার্থীরা? জানা গিয়েছে, আটদিনে মহাকাশ বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়, স্যাটেলাইট সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং, পেলোড ডিজাইন, ইলেকট্রনিক্স এবং ইন্টিগ্রেশন, কোডিং এবং সমস্যা সমাধান, মহাকাশ মিশন পরিকল্পনা এবং কীভাবে নেতৃত্ব এবং দলবদ্ধভাবে কাজ করতে হয় তা শেখানো হবে। স্কুলের শিক্ষিকা শুচিস্মিতা মিশ্র বলেন, মেয়েরাও যাতে আগামী দিনে মহাকাশ গবেষণার কাজে এগোতে পারে সেজন্য ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টার ও ইসরো দারুণ একটি উদ্যোগ নিয়েছে। মহাকাশ গবেষণায় মেয়েদের অংশগ্রহণ এখনো কম। সেখানে গ্রামের এক ছাত্রী রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করবে, এটা অত্যন্ত খুশির খবর। ছাত্রী মধুমিতা বলে, দশম শ্রেণির পর থেকে এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ার ইচ্ছে তৈরি হয়। স্কুলের অটল টিংকারিং ল্যাবে কাজের সময় সেই ইচ্ছে বাড়িয়ে দেন শুভজিৎবাবু। তিনি ভীষণভ উৎসাহ দিয়েছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবাশিস পাহাড়ী বলেন, কেন্দ্রের অটল টিঙ্কারিং ল্যাব মধুমিতাকে উৎসাহিত করেছে। এই ল্যাব দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্কুল ল্যাবগুলির মধ্যে গ্রামীণ এলাকার সেরা ল্যাব বলে স্বীকৃতিও পেয়েছে।



