Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তাজপুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, ডাক্তার দম্পতির মৃত্যুতে শোকাতুর দুই পরিবার, বিমর্ষ প্রতিবেশীরাও

সদ্য সরকারি হাসপাতালে যোগ দিয়েছিলেন। একদিন রোগীও দেখে এসেছেন। শ্বশুরমশাই নতুন বাড়ি দেখে এসেছিলেন বউমার জন্য।

তাজপুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, ডাক্তার দম্পতির মৃত্যুতে শোকাতুর দুই পরিবার, বিমর্ষ প্রতিবেশীরাও
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সদ্য সরকারি হাসপাতালে যোগ দিয়েছিলেন। একদিন রোগীও দেখে এসেছেন। শ্বশুরমশাই নতুন বাড়ি দেখে এসেছিলেন বউমার জন্য। পাকাপাকি ভাবে মুর্শিদাবাদে কর্মস্থলে যাওয়ার আগে কিছুটা সময় পেয়েছিলেন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শৈলজা ভরদ্বাজ। শল্য চিকিৎসক স্বামী কুন্তল চক্রবর্তীর সঙ্গে বুধবার পৌঁছে গিয়েছিলেন তাজপুরে। সেখানে থেকে সন্ধ্যায় মাকে ফোনও করেছিলেন।  রাতে তাজপুর সমুদ্রে উদ্ধার হয় দু’জনের দেহ। চিকিৎসক দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাক্যহারা সোদপুর। হাহাকার করছেন দুই পরিবারের সদস্যেরা। চোখের জলে ভাসছেন পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা।  

Advertisement

পানিহাটির ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ পার্কের বাসিন্দা কুন্তল চক্রবর্তী (৩৬)। বৃদ্ধ বাবা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী ও মা শঙ্করী চক্রবর্তী বাড়িতে থাকেন। একমাত্র ছেলে কুন্তল ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএসের পর আর জি কর মেডিকেল কলেজ থেকে শল্য চিকিৎসায় স্নাতকোত্তর করেন। বর্তমানে তিনি কলকাতার একাধিক বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শৈলজা ভরদ্বাজের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। শৈলজাদেবীর বাড়ি পাটনা। তিনি বাঁকুড়া মেডিকেলে পড়াশোনা করেন। শৈলজাদেবী সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের ডোমকল মহকুমা হাসপাতালে স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন। পাকাপাকি ভাবে মুর্শিদাবাদ যাওয়ার আগে দম্পতি এক দিনের ঝটিকা সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বুধবার দুপুরে নিজেদের গাড়িতে তাঁরা তাজপুর বেরিয়ে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন চালক। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ফেরার কথা বলেছিলেন। কিন্তু রাত ১০টা নাগাদ গাড়ি চালক বাড়িতে ফোন করে মর্মান্তিক ঘটনার খবর জানান। রাতেই আত্মীয়দের সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরে দৌড়ে গিয়েছেন বৃদ্ধ বিশ্বজিৎবাবু। বাড়িতে হাহাকার করছেন শঙ্করীদেবী। খবর পেয়ে পাটনা থেকে ঘোলার বাড়িতে পৌঁছেছেন শৈলজাদেবীর বাবার বাড়ির লোকেরাও। শৈলজাদেবীর মামা তথা প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ রাকেশ সিনহা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এদিন রাতে মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছনোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন আত্মীয় পরিজনেরা। কুন্তলবাবুর মামী শ্রাবন্তী সাহা বলেন, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ফোন আসে। আচমকা এই খবরে আমরা হতবাক হয়ে গিয়েছি। বিশ্বাস করতে পারছি না। 
পিসি অঞ্জলি চট্টোপাধ্যায় বলেন, দু’জনে ডাক্তার। তাই ছুটি বেশি পেত না। একটু ফাঁকা পেয়ে বেরিয়েছিল। কিন্তু এমন ঘটেছে এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। হাহাকার করে শঙ্করীদেবী বলছেন, ভগবান কেন সব কেড়ে নিল?  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ